Abandoned Rail Route: বীরভূমের ‘ভূতুড়ে’ পলাশথলি রেলপথ! একসময়ের কোলাহল আজ স্তব্ধ, ট্রেন বন্ধের রহস্যে ঘেরা সীমান্তাঞ্চল

১৬ ডিগ্রিতে এসি চালানো কি ক্ষতিকর? Bureau of Energy Efficiency-এর মতে ২৪ ডিগ্রিই স্বাস্থ্যকর ও সাশ্রয়ী। জেনে নিন সঠিক তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ বিল কমানোর টিপস।

এক সময়ের গমগমে প্ল্যাটফর্ম, যাত্রীদের ভিড় আর ট্রেনের সিটি—সবই এখন অতীত। বীরভূমের পলাশথলি রেল রুট আজ নিস্তব্ধ, ঝোপঝাড়ে ঢাকা এবং স্থানীয়দের কাছে ‘ভূতুড়ে স্টেশন’ নামে পরিচিত। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া পলাশথলি জংশন

বীরভূম জেলার সীমান্ত ঘেঁষা পলাশথলি এক সময় গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগস্থল ছিল। পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল থেকে বীরভূমের ভীমগড় হয়ে ট্রেন চলাচল করত এই লাইনে। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যাত্রীদের জন্যও এটি ছিল শেষ গন্তব্য। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই রুটে যাতায়াত করতেন।

হঠাৎ পরিষেবা বন্ধ, বাড়ল সীমান্তের দুর্ভোগ

কয়েক বছর আগে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। সরকারি ভাবে নির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট না হলেও, পরিষেবা বন্ধের পর থেকেই ভুগতে শুরু করেন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। বাস পরিষেবা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে পড়ুয়া, শ্রমিক, ব্যবসায়ী—সকলের জন্যই বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্টেশনজুড়ে এখন নীরবতা আর জঙ্গল

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একসময়ের আধুনিক স্টেশন ভবন আজ জীর্ণ। প্ল্যাটফর্মের ফাঁকে ফাঁকে জন্মেছে বট-অশ্বত্থের চারা। টিকিট কাউন্টার বন্ধ, ওয়েটিং হল ভাঙাচোরা। সন্ধ্যার পর গোটা এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, ট্রেনের শব্দের বদলে এখন শুধু শোনা যায় বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ।

অর্থনীতিতে ধাক্কা, বাড়ল যাতায়াতের খরচ

রেল যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্রেন বন্ধের নেপথ্যে কী রহস্য?

স্থানীয়দের মধ্যে নানা গুঞ্জন শোনা যায়। কেউ বলেন, রেললাইনের নিচে বিশাল খাদ তৈরি হওয়ার কারণে পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছিল। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও সরকারি নথি সামনে আসেনি। অনেকেই মনে করেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়াই মূল কারণ হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ আজও স্পষ্ট নয়।

পুনরায় ট্রেন চালুর দাবিতে সরব বাসিন্দারা

এলাকার বাসিন্দাদের একটাই দাবি—পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই রুট সংস্কার করে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করেন। তাঁদের মতে, রেল পরিষেবা ফিরলে সীমান্তবর্তী এই অনগ্রসর অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিশা খুলবে। কর্মসংস্থান বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে।

বীরভূম-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে অবস্থিত পলাশথলি রেলপথ একসময় ছিল ব্যস্ত যোগাযোগের কেন্দ্র। অন্ডাল থেকে ভীমগড় হয়ে এই রুটে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পরিষেবা বন্ধ থাকায় আজ স্টেশন চত্বর পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত স্থানে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় ভুগছেন হাজার হাজার মানুষ। কেন বন্ধ হল ট্রেন? সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা।

Leave a comment