সময় বাঁচাতে আজকাল বহু পরিবারেই আগেভাগে আটা বা ময়দা মেখে ফ্রিজে রাখার চল বেড়েছে। কিন্তু পরদিন সেই মাখা আটা কালচে দেখলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন। ফ্রিজে সমস্যা নাকি আটা নষ্ট? আসলে এর পেছনে রয়েছে একেবারে বৈজ্ঞানিক কারণ।

কেন কালো হয়ে যায় মাখা আটা?
গমের আটায় ‘টাইরোসিনেজ’ নামে একটি এনজাইম থাকে। জল মেশানোর পর এই এনজাইম সক্রিয় হয়ে ওঠে। পরে বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে জারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘মেলানিন’-জাতীয় রঙিন যৌগ তৈরি হয়। এর ফলেই উপরের অংশ ধূসর বা কালচে দেখায়।ফ্রিজে তাপমাত্রা কম হলেও ভিতরে বাতাস চলাচল করে, ফলে উপরিভাগ শুকিয়ে গিয়ে রঙ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে।
নষ্ট না স্বাভাবিক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রঙ পরিবর্তন মানেই আটা নষ্ট নয়। যদি টক গন্ধ না থাকে বা ছাঁচ না ধরে, তবে উপরকার পাতলা স্তর ফেলে দিয়ে ভেতরের অংশ ব্যবহার করা যায়।
তবে দুর্গন্ধ, আঠালো ভাব বা ছত্রাক দেখা গেলে অবশ্যই ফেলে দিতে হবে।

এক কাজেই থাকবে একেবারে ফ্রেশ
ময়দা বা আটা মাখার পর উপরে হালকা করে তেল বা ঘি মাখিয়ে দিন। এটি বাতাসের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ বন্ধ করে দেয়। ফলে জারণ প্রক্রিয়া অনেকটাই কমে যায়।
এই ছোট্ট কৌশলেই আটা দীর্ঘ সময় টাটকা থাকবে।

সংরক্ষণের সঠিক উপায়
এয়ারটাইট পাত্র ব্যবহার করুন: সাধারণ বাটি নয়, বায়ুরোধী কন্টেনারে রাখুন।
ক্লিং ফিল্মে ঢেকে রাখুন: পাত্রে রাখার আগে শক্ত করে মোড়ে নিলে অক্সিজেন ঢুকতে পারে না।
লেবুর রসের ফোঁটা: মাখার সময় ২–৩ ফোঁটা লেবুর রস দিলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
গরম জল বা সামান্য দুধ: এতে রুটি নরম হয় এবং রঙ দ্রুত বদলায় না।
কতদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা নিরাপদ?
সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখা আটা ব্যবহার করা উচিত। তার বেশি সময় রাখলে স্বাদ ও গুণমান কমে যেতে পারে। যতটা সম্ভব তাজা মাখা আটা দিয়ে রুটি বানানোই স্বাস্থ্যকর।

ব্যস্ত জীবনে অনেকেই একসঙ্গে আটা বা ময়দা মেখে ফ্রিজে রেখে দেন। কিন্তু পরদিন দেখা যায় উপরটা ধূসর বা কালচে। কেন এমন হয়? বিশেষজ্ঞদের মতে এটি নষ্ট হওয়ার লক্ষণ নয়, বরং প্রাকৃতিক রাসায়নিক বিক্রিয়া। সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করলে সহজেই এ সমস্যা এড়ানো যায়।













