দিল্লি থেকে লেহগামী স্পাইসজেটের ফ্লাইট SG121 উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর ইঞ্জিন-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত অ্যালার্ট পাওয়ার পর সতর্কতামূলকভাবে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনা হয়। প্রায় ১৫০ জন যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন।
ফ্লাইটটি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লেহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে ককপিটে একটি ইঞ্জিন-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত অ্যালার্ট ধরা পড়ে। নির্ধারিত এভিয়েশন প্রোটোকল অনুসারে পাইলটরা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে নিকটবর্তী বিমানবন্দরে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
লেহের মতো উচ্চতাসম্পন্ন বিমানবন্দরে উড্ডয়নের ক্ষেত্রে বিমানের সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রয়োজন হওয়ায় পাইলটরা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দিল্লিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
বিমানের ফেরার তথ্য পাওয়ার পর দিল্লি বিমানবন্দরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রানওয়েকে অগ্রাধিকার দেয় এবং দমকল ও মেডিক্যাল দলকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়।
জরুরি অবস্থা ঘোষণা একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ, যাতে অবতরণের সময় সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। বিমানটি নিরাপদে রানওয়েতে অবতরণ করে এবং সব যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। কোনো যাত্রী আহত হওয়ার খবর নেই।
ফ্লাইটে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন। অবতরণের পর তাদের নিরাপদে টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়। এয়ারলাইনের পক্ষ থেকে বিকল্প ব্যবস্থার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

ইঞ্জিন সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এয়ারলাইন এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে রক্ষণাবেক্ষণ দল বিমানের বিস্তারিত পরিদর্শন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এভিয়েশন নিয়ম অনুযায়ী প্রযুক্তিগত পরীক্ষা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিমানকে পুনরায় উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয় না।
এভিয়েশন ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ইঞ্জিন-সংক্রান্ত কোনো অস্বাভাবিক শব্দ, কম্পন বা প্রযুক্তিগত সংকেতকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। পাইলট ও গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় থাকে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিমানকে অবিলম্বে নিরাপদ বিমানবন্দরে অবতরণ করানো মানক প্রক্রিয়া। এই ঘটনাতেও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
এই জরুরি অবতরণের ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে যখন সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের চতরা জেলায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রাঁচি থেকে দিল্লিগামী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে উড্ডয়ন করেছিল। উড্ডয়নের প্রায় ২৩ মিনিট পর সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরে চতরা জেলার সিমরিয়া ব্লকের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সকল ৭ জনের মৃত্যু হয়। উদ্ধারকারী দল মঙ্গলবার সব মরদেহ উদ্ধার করে।











