ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন আজ, মঙ্গলবার, নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ‘জাতীয় গোলটেবিল সম্মেলন’ আয়োজন করছে। এই ধরনের সম্মেলন সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রায় ২৭ বছর পর আয়োজিত এই বৈঠক জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী। সম্মেলনে সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাজ্য নির্বাচন কমিশনাররা অংশ নেবেন। তাঁদের সঙ্গে আইনি ও প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকরাও অংশগ্রহণ করবেন।
নির্বাচন কমিশনের মতে, সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জাতীয় নির্বাচন সংস্থা এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করা। প্রশাসনিক, আইনি ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনায় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। এই প্রেক্ষাপটে ‘সহযোগিতামূলক ফেডারেলিজম’-এর নীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হবে।

সম্মেলনের এজেন্ডায় প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া বিনিময়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর ব্যবহার, নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সম্প্রতি চালু হওয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ইসিনেট’ (ECINET) সম্পর্কে উপস্থাপনা করবেন।
‘ইসিনেট’-এর লক্ষ্য হলো নির্বাচন ব্যবস্থাপনাকে আরও ডিজিটাল, দক্ষ এবং তথ্যভিত্তিক করা। বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করার বিষয়টি এতে গুরুত্ব পাবে। ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও হালনাগাদকরণ নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হবে।
ভারতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনসমূহের গঠন সংবিধানের ৭৩তম ও ৭৪তম সংশোধনের অধীনে করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য স্থানীয় স্বশাসন প্রতিষ্ঠান—পঞ্চায়েত ও পৌর সংস্থার—নির্বাচন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা। জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ নির্বাচন ও বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত, আর স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অধিক্ষেত্রে পড়ে।
সম্মেলনের মাধ্যমে দুই স্তরের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একরূপতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা যায়।










