যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কচাপ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কানাডা তার অর্থনৈতিক কৌশলে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উপর প্রচলিত নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সপ্তাহে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান সফরে যাচ্ছেন। এই সফরকে কানাডার নতুন বাণিজ্য নীতি এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণের কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কার্নি বলেছেন, অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিবেশে কানাডা এমন ক্ষেত্রগুলিতে গুরুত্ব দেবে যেগুলি দেশটি নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাঁর লক্ষ্য আগামী দশ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রপ্তানি দ্বিগুণ করা। তিনি বলেন, মার্কিন শুল্ক বিনিয়োগকে দুর্বল করছে এবং কানাডাকে নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী কার্নি তাঁর সফর ভারত থেকে শুরু করবেন এবং বৃহস্পতিবার মুম্বাই পৌঁছাবেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হবে।

মুম্বাইয়ে কার্নি ভারতের শিল্প ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এই বৈঠকের উদ্দেশ্য কানাডায় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা। কানাডা প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং কৃষি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ভারত সফরের পর কার্নি অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় যাবেন। সেখানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সংসদের উভয় কক্ষকে ভাষণ দেবেন। সফরকালে তাঁর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
সফরের শেষ পর্যায়ে কার্নি জাপানের টোকিও সফর করবেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক হবে। বৈঠকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। জাপান কানাডার একটি প্রধান প্রযুক্তিগত অংশীদার এবং উভয় দেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
কানাডার অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সাম্প্রতিক শুল্ক এবং বাণিজ্যিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অটোয়া বিকল্প বাজার ও অংশীদারিত্ব জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। কার্নির এই সফর সেই কৌশলের অংশ। তিনি বড় পরিসরের নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।








