ব্যাংকুরার ঐতিহ্যবাহী শহর Bishnupur-এর বুকে শতবর্ষের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা Maa Chhinnamasta Temple সম্প্রতি পেয়েছে আমূল ভোলবদল। নবীকরণের পর নতুন রূপে সেজে উঠেছে শক্তির এই পীঠস্থান সদৃশ মন্দির। ভক্তি, রহস্য ও ইতিহাসের মেলবন্ধনে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন শত শত দর্শনার্থী।

নবীকরণে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়া
প্রায় এক শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দিরের কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখেই করা হয়েছে সৌন্দর্যায়ন। রঙের নতুন প্রলেপ, পরিস্কার প্রাঙ্গণ, আলোকসজ্জা ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্নত ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে এখন আরও সুসজ্জিত পরিবেশ। স্থানীয়দের মতে, আগে যেখানে পরিকাঠামোর কিছু ঘাটতি ছিল, এখন তা অনেকটাই মিটেছে। ফলে পরিবার নিয়ে নির্ভয়ে পুজো দিতে আসছেন অনেকে।
‘মস্তকবিচ্ছিন্ন’ দেবীমূর্তির রহস্যময় শক্তির আরাধনা
ইতিহাস গবেষক সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘ছিন্নমস্তা’ শব্দের অর্থই হল ‘মস্তক বিচ্ছিন্ন’। দেবীর এই বিরল রূপই তাঁকে অন্য সব দেবীমূর্তির থেকে আলাদা করেছে। মন্দিরে স্থাপিত প্রতিমায় দেখা যায় দেবী এক বিশেষ ভঙ্গিতে অধিষ্ঠিত। কোথাও তাঁকে দ্বাদশভুজা রূপেও চিত্রিত করা হয়। শক্তির প্রতীক এই দেবীমূর্তি ভক্তদের কাছে জাগ্রত ও রহস্যময় বলে মান্য। তাই মানত ও প্রার্থনায় ভিড় লেগেই থাকে বছরভর।

জোড় মন্দির থেকে দলমাদল—একসঙ্গে মিলছে বহু দর্শনীয় স্থান
মন্দিরটি অবস্থিত ঐতিহাসিক পথের ধারে, Jor Bangla Temple-এর দিকেই যেতে হয়। কাছেই রয়েছে বিখ্যাত Dalmadal Cannon। ফলে বিষ্ণুপুর ভ্রমণে বেরোলে একই দিনে একাধিক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান ঘুরে দেখা যায়। টেরাকোটা স্থাপত্যের আবহে ছিন্নমস্তা মন্দির যেন বাড়তি আকর্ষণ।
নিয়মিত পুজো-আরতিতে উপচে পড়া ভিড়
প্রতিদিন নিয়ম মেনে পুজো ও আরতি অনুষ্ঠিত হয়। অমাবস্যা, বিশেষ তিথি কিংবা উৎসবের দিনে মন্দির চত্বরে পা ফেলার জায়গা থাকে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও আসেন ভক্তরা। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নবীকরণের পর দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়েছে।
পুজোর সরঞ্জামে সম্পূর্ণ সুবিধা
মন্দিরের বাইরে সারি সারি দোকানে সহজেই মিলছে ফুল, ধূপ, প্রদীপ, প্রসাদসহ যাবতীয় সামগ্রী। ফলে দর্শনার্থীদের কোনও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় না। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠায় আশপাশে চায়ের দোকান থেকে ছোটখাটো খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে।

প্রায় ১০০ বছরের প্রাচীন মা ছিন্নমস্তার মন্দিরের নবীকরণে বদলে গেল চেহারা। ঐতিহ্যবাহী পরিবেশের মাঝেই আধুনিক পরিকাঠামো যুক্ত হওয়ায় এখন আরও আকর্ষণীয় এই তীর্থস্থান। বিষ্ণুপুর ভ্রমণে জোড় মন্দির ও দলমাদল কামানের পাশাপাশি এই মন্দিরও এখন পর্যটকদের ‘মাস্ট ভিজিট’ তালিকায়।













