বিহার সফরে অমিত শাহ অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন পর্যালোচনায় উচ্চস্তরীয় কমিটি ঘোষণার কথা জানালেন

বিহার সফরে অমিত শাহ অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন পর্যালোচনায় উচ্চস্তরীয় কমিটি ঘোষণার কথা জানালেন

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুধবার থেকে তিন দিনের বিহার সফরে রয়েছেন। সফরকালে তিনি আরারিয়া-সহ সীমান্তবর্তী অন্যান্য জেলা পরিদর্শন করেন এবং রাজ্যের কর্মকর্তাদের, এসএসবি (সশস্ত্র সীমা বল) ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গে কথিত জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, অনুপ্রবেশ এবং অবৈধ ধর্মীয় নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়গুলির পর্যালোচনা। অমিত শাহ বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের কারণে দরিদ্র মানুষের খাদ্যশস্যের ওপর প্রভাব পড়ে এবং দেশের যুবকদের কর্মসংস্থান ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপরও হুমকি সৃষ্টি হয়।

অমিত শাহ জানান, দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কেন্দ্রকে সংবেদনশীল জেলাগুলির পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবে। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও বিহার সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত অঞ্চল। অমিত শাহ বলেন, অস্বাভাবিক জনসংখ্যা পরিবর্তন যে কোনও দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে চলমান নির্বাচনের প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস যে এ বার বিজেপির সরকার গঠিত হবে। তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম পদক্ষেপ হবে সীমান্তে বেড়ার কাজ সম্পূর্ণ করা এবং একে একে অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বহিষ্কার করা। তিনি বলেন, এটি কোনও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং কেন্দ্রের মোদি সরকারের অঙ্গীকার। অমিত শাহ বলেন, পরবর্তী বার জনাদেশ চাইতে গেলে সব অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া তাঁদের অগ্রাধিকার হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিহারের আরারিয়া জেলায় নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন লেটিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসএসবি-র ৫২তম ব্যাটালিয়নের বিএওপি ভবনের উদ্বোধন করেন। এ সময় অমিত শাহ বলেন, সীমাঞ্চলকে অনুপ্রবেশকারীদের থেকে মুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের কারণে স্থানীয় দরিদ্রদের খাদ্যশস্য ও যুবকদের কর্মসংস্থানের ওপর প্রতিকূল প্রভাব পড়ে। জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

অমিত শাহ বলেন, বিহার সরকারের থেকে শুরু করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি জেলায় কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা যায়। তিনি বলেন, সীমান্ত থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সমস্ত অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। এ জন্য এসএসবি, পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসন সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অমিত শাহ বলেন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন কেবল সংখ্যার বিষয় নয়; এটি দেশের নিরাপত্তা, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং সম্পদের ব্যবহারের ওপরও প্রভাব ফেলে। তিনি সীমাঞ্চল ও অন্যান্য সংবেদনশীল জেলায় পরিস্থিতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, যাতে স্থানীয় নাগরিকদের জীবন প্রভাবিত না হয় এবং সম্পদের যথাযথ বণ্টন নিশ্চিত করা যায়।

অমিত শাহ বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের উপস্থিতি কেবল নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি করে না, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য।

 

Leave a comment