ফল প্রকাশের আগে সাধারণত বাড়ে উত্তেজনা, দুশ্চিন্তা আর হিসেব-নিকেশ। কিন্তু সেই প্রচলিত চিত্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা অবস্থানে দাঁড়িয়ে অধীর চৌধুরী। বহরমপুরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি স্পষ্ট জানালেন—ফল যা হওয়ার, তা হবেই; এখন শুধু অপেক্ষা।
ফলের আগেই ‘দার্শনিক’ সুর
রবিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর বলেন, “মানুষ তাঁদের রায় দিয়ে দিয়েছেন। এখন ভেবে আর কী হবে?” তাঁর কথায় স্পষ্ট, ফলাফল নিয়ে কোনও বাড়তি উদ্বেগে নেই তিনি।
‘নিরুত্তাপ’ ভঙ্গিতে বিস্মিত রাজনৈতিক মহল
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু উত্থান-পতন দেখেছেন অধীর। তবু এবারের মতো এতটা নির্লিপ্ত তাঁকে আগে খুব কমই দেখা গেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে অভিজ্ঞতা থেকে আসা এক ধরনের স্থিরতা।
“ইভিএম খুললেই সব স্পষ্ট”
অধীরের স্পষ্ট বক্তব্য, “এখন টেনশন করে কোনও লাভ নেই। ইভিএম খুললেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ভোটের আগাম ফলাফল নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ছে।
৩০ বছরের রাজনৈতিক সফর
১৯৯৬ সালে নবগ্রাম থেকে প্রথম বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন অধীর। পরে বহরমপুর থেকে টানা পাঁচবার সাংসদ, লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন।
লোকসভা থেকে আবার বিধানসভায় ফেরা
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রায় তিন দশক পর আবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করছেন অধীর। বহরমপুর কেন্দ্রের এই লড়াই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।
জিতলে উত্থান, হারলে বড় ধাক্কা
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচনে জয় পেলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন অধীর। অন্যদিকে, পরাজয় হলে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
জেলার রাজনীতিতে বড় বাজি
মুর্শিদাবাদের একাধিক কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীদের বাছাই নিজে করেছেন অধীর। ফলে জেলার সামগ্রিক ফলাফলও তাঁর নেতৃত্বের উপর বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
West Bengal Assembly Elections 2026-এর ফল ঘোষণার আগে একেবারেই শান্ত মেজাজে ধরা দিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। টানটান উত্তেজনার মধ্যেও তাঁর নির্লিপ্ত মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।











