আগ্রায় আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে প্রবল ঝড় ও ধুলিঝড় জনজীবনে প্রভাব ফেলেছে। প্রায় ৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে বয়ে যাওয়া ঝড়ে শহরের একাধিক এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
সন্ধ্যার সময় হঠাৎ আকাশে কালো মেঘ জমে এবং প্রবল বাতাস বইতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে গেলে সড়কে চলাচলকারী মানুষ ও যানবাহন চালকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়। ধুলিঝড়ের কারণে দৃশ্যমানতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
শহরের ব্যস্ত বাজার ও আবাসিক এলাকাগুলোতে ঝড়ের প্রভাব বেশি দেখা যায়। একাধিক স্থানে বড় গাছ শিকড়সহ উপড়ে সড়কে পড়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। কিছু এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও হোর্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেভ মার্কেট এলাকায় প্রবল ঝড়ের সময় একটি ভবনের দেয়াল ধসে পড়ে। দেয়াল ধসে পড়ার পর এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ঘটনার সময় সেখানে বেশি ভিড় না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনকে বিষয়টি জানান।
ঝড়ের কারণে শহরের একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ছিঁড়ে যাওয়া তার ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বহু মহল্লা অন্ধকারে ডুবে যায়। উত্তর প্রদেশ পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেডের দল গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজে নিয়োজিত ছিল।
প্রবল বাতাসের কারণে বহু মোটরসাইকেল আরোহী সমস্যায় পড়েন। কিছু মানুষ দোকান ও ভবনের নিচে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের নিরাপদ রাখেন। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও প্রাক-বর্ষা কার্যকলাপের প্রভাবে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন ঘটেছে। বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ায় ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে এবং কিছু স্থানে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঝড়ের পর শহরের একাধিক এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে তাপমাত্রা কমে যায় এবং তীব্র গরম থেকে মানুষ স্বস্তি পায়। গত কয়েক দিন ধরে গরম ও লুতে ভোগা মানুষ আবহাওয়ার পরিবর্তনে স্বস্তি অনুভব করছেন।
আগ্রা নগর নিগমের দল সড়কে পড়ে থাকা গাছ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজে নেমেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সমীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আকস্মিক ঝড়ের কারণে বাজারগুলোতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। বহু দোকানদারকে দ্রুত পণ্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। কিছু এলাকায় টিনশেড ও অস্থায়ী কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝড়ের পর সামাজিক মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন এলাকার ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ উপড়ে পড়া গাছ, ভেঙে পড়া হোর্ডিং ও ধুলিঝড়ের দৃশ্য শেয়ার করেন।
আগ্রা জেলা প্রশাসন খারাপ আবহাওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রবল বাতাস ও বজ্রপাতের সময় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি এবং দুর্বল ভবন থেকে দূরে থাকতে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোতে উত্তর প্রদেশের আরও কয়েকটি অংশে একই ধরনের আবহাওয়া দেখা যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মানুষকে আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তার প্রতি নজর দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।












