নতুন বছর শুরু হতেই সাধারণ মানুষের জন্য এল খারাপ খবর। যাঁরা ভেবেছিলেন ২০২৬ সালে নতুন করে বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার বসাবেন, তাঁদের পকেটে এবার পড়তে পারে বড়সড় চাপ। জানুয়ারি মাসেই এমন কিছু আপডেট সামনে এসেছে, যার জেরে এসির দাম বাড়ার সম্ভাবনা কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তামার দামে রেকর্ড বৃদ্ধি, চাপ এসি বাজারে
আন্তর্জাতিক বাজারে গত মাসে তামার দাম প্রতি টনে ১২,০০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত ১৬ বছরে এমন দরবৃদ্ধি দেখা যায়নি বলেই দাবি বাজার বিশেষজ্ঞদের। যেহেতু এসি তৈরিতে তামার ব্যবহার অপরিহার্য, তাই এই দামের সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন খরচে।
শীতেই এসি কেনা সস্তা ছিল, এবার সেই হিসাব বদলাতে চলেছে
সাধারণত শীতকালে এসির চাহিদা কম থাকায় দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকে। অনেকেই এই সময় সুযোগ নিয়ে এসি কিনে রাখেন। কিন্তু ২০২৬ সালের শুরুতেই বাজারে যে ইঙ্গিত মিলছে, তাতে মার্চের আগেই এসির দাম অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা।
তামার বিকল্প নেই, দাম বাড়া অনিবার্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি তৈরিতে তামার বিকল্প হিসেবে কোনও সস্তা উপাদান ব্যবহার করা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব নয়। ফলে তামার দাম যত বাড়বে, উৎপাদন খরচও তত বাড়বে। যদিও ঠিক কত টাকা দাম বাড়বে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না, তবে বৃদ্ধি যে অনিবার্য, তা প্রায় নিশ্চিত।
স্টার রেটিং বাধ্যতামূলক, বাড়তে পারে খরচ
এর মধ্যেই ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি (BEE) ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এসি-সহ একাধিক বৈদ্যুতিক পণ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয় মূল্যায়নের স্টিকার বাধ্যতামূলক হবে।
এই তালিকায় রয়েছে—
এয়ার কন্ডিশনার
টিভি
রেফ্রিজারেটর
এলপিজি গ্যাস স্টোভ
কুলিং টাওয়ার
স্টার রেটিং বাধ্যতামূলক হওয়ায় উৎপাদনে অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত খরচ যুক্ত হচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে।
কতটা বাড়তে পারে এসির দাম?
সূত্রের খবর অনুযায়ী,
অধিকাংশ সংস্থার উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৭–৮ শতাংশ
তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারে দাম বাড়তে পারে ৮–১০ শতাংশ পর্যন্ত
অর্থাৎ ২০২৫ সালে যে এসি ৪০ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, ২০২৬ সালে তার দাম পৌঁছতে পারে ৪৪ হাজারের কাছাকাছি।
২০২৬ সালে নতুন এসি কেনার পরিকল্পনা থাকলে এখনই সতর্ক হওয়ার সময়। আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দামে রেকর্ড বৃদ্ধি এবং নতুন স্টার রেটিং নিয়মের জেরে চলতি বছরেই এসির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।













