অজিত আগরকরকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেটে ফের শুরু হয়েছে আলোচনা। ২০২৩ সালে প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আগরকরের বর্তমান মেয়াদ শেষের পথে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সাদা বলের সিরিজের দল নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক রিপোর্ট সামনে এসেছে। এমনও দাবি করা হচ্ছে, বিদায়ের সম্ভাবনা মাথায় রেখে BCCI সচিব দেবজিৎ সাইকিয়াকে ধন্যবাদবার্তা পাঠানোর কথা ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন আগরকর।

শেষ বৈঠক হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের নির্বাচন
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজের দল ১৬ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে। ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ২৭ সেপ্টেম্বর, আর টি-২০ সিরিজ শুরু ৬ অক্টোবর থেকে।এই দল নির্বাচনের বৈঠকটিই অজিত আগরকরের প্রধান নির্বাচক হিসেবে শেষ বৈঠক হতে পারে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তবে BCCI এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে আগরকরকে সরানো হচ্ছে বা তাঁর জায়গায় নতুন কাউকে আনা হচ্ছে। তাই বিষয়টি আপাতত রিপোর্ট ও জল্পনার মধ্যেই রয়েছে।
তিন বছর ধরে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব
২০২৩ সালের জুলাইয়ে অজিত আগরকরকে ভারতীয় সিনিয়র নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। তাঁর মেয়াদ ঘিরে ২০২৬ সাল থেকেই একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তাঁর তিন বছরের মেয়াদ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।এর মধ্যে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আবার দাবি করা হয়েছিল যে BCCI আগরকরকে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত রাখার বিষয়ে আগ্রহী। অর্থাৎ তাঁর মেয়াদ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পরস্পর ভিন্ন রিপোর্ট সামনে এসেছে।
BCCI-এর সঙ্গে কী নিয়ে আলোচনা?
আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাতের অন্যতম কারণ ছিল সেপ্টেম্বরের শুরুতে BCCI-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতি। ৩ সেপ্টেম্বরের ওই বৈঠকে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।আগরকর ব্যক্তিগত কারণে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে BCCI সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খুব অল্প সময়ের নোটিশে বৈঠক ডাকা হয়েছিল এবং আগরকর শহরের বাইরে থাকায় অনলাইনেও যোগ দিতে পারেননি।

‘থ্যাঙ্ক ইউ’ নোট পাঠানোর জল্পনা
এবার সামনে এসেছে আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি। রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দল নির্বাচনের পর আগরকর BCCI সচিব দেবজিৎ সাইকিয়াকে একটি ধন্যবাদবার্তা পাঠাতে পারেন।ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কারণ, BCCI তাঁকে প্রায় তিন বছর দেশের প্রধান নির্বাচক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে বলেই ওই বার্তার কথা বলা হচ্ছে।তবে এই ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ নোটের খবরও এখনও রিপোর্টভিত্তিক। আগরকর বা BCCI-এর তরফে এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সামনে আসেনি।
আগরকরের সময়ে ভারতের সাদা বলের সাফল্য
আগরকরের মেয়াদে ভারতের সাদা বলের ক্রিকেটে একাধিক বড় সাফল্য এসেছে। ২০২৪ ও ২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছে ভারত—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের পরবর্তী সময়েও নির্বাচক কমিটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দলে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির প্রত্যাবর্তন হয়েছে। ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে রয়েছেন শুভমন গিল, আর টি-২০ দলের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার।
২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকার ইচ্ছা ছিল?
আগরকরকে নিয়ে প্রকাশিত আগের রিপোর্টগুলিতে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ বাড়তে পারে বলেও আলোচনা হয়েছিল। আবার অন্য রিপোর্টে মেয়াদ না বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।ফলে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, BCCI শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন প্রধান নির্বাচক নিয়োগের বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত নাম বা সরকারি ঘোষণা সামনে আসেনি।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরের মেয়াদ ঘিরে ফের জোর জল্পনা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের আসন্ন ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজের দল নির্বাচনের বৈঠকটি তাঁর প্রধান নির্বাচক হিসেবে শেষ বৈঠক হতে পারে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও BCCI-এর তরফে চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।










