এন্টি নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স (ANTF) রাজস্থানে সংগঠিত অপরাধবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জয়পুর থেকে কুখ্যাত গ্যাংস্টার রাজরাম ওরফে রাজু মাঞ্জুকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যার চেষ্টা, অপহরণ, লুটপাট, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচারসহ ৩৬টির বেশি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে এবং তার মাথার ওপর ৭৫ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা ছিল।
অভিযান পরিচালনার কৌশল
ANTF এই অভিযানটি পরিকল্পিত কৌশলে পরিচালনা করে। তথ্য অনুযায়ী, রাজু মাঞ্জু জয়পুরে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচার জন্য যোগাযোগ খুঁজছিল। এরপর পুলিশ দল নিজেদের অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং ধাপে ধাপে বিশ্বাস অর্জন করে তাকে জয়পুরের মানসরোবর এলাকার একটি পার্কে সাক্ষাতের জন্য রাজি করায়।
অভিযান সফল করতে পুলিশ দল প্রায় তিন দিন ধরে পার্কের আশপাশে নজরদারি চালায়। এই সময় এক পুলিশ সদস্য স্থানীয় চায়ের দোকানে চা বিক্রেতা সেজে সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজর রাখে।
গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি
পুলিশের মতে, রাজু মাঞ্জু নিজেকে নিরাপদ ভেবে সাক্ষাতের জন্য বিশেষ চিহ্ন নির্ধারণ করে। সে লাল টুপি ও কালো চশমা পরে একা পার্কে পৌঁছায়। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই প্রস্তুত পুলিশ দল তাকে ঘিরে ধরে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের সময় সে দাবি করে, সম্প্রতি একটি ওয়েব সিরিজ দেখে সে ‘এজেন্ট স্টাইল’-এ সাক্ষাতের পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল যাতে পুলিশকে এড়াতে পারে, কিন্তু তার এই কৌশল কার্যকর হয়নি।
অভিযানের নামকরণ
এই অভিযানের নাম রাখা হয় “অপারেশন মদমার্জার”। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, রাজু মাঞ্জু অপরাধ জগতে অত্যন্ত সতর্ক ও চতুর হিসেবে পরিচিত ছিল এবং তার পুরনো সহযোগীরা তাকে “বিল্লা” নামে ডাকত। এই প্রেক্ষিতে “মার্জার” (বিড়াল) এবং তার বাড়তে থাকা অহংকার “মদ” শব্দকে মিলিয়ে এই নামকরণ করা হয়।

‘০০৭ গ্যাং’-এর গঠন ও বিস্তার
রাজু মাঞ্জু প্রায় ২০১৩ সালে অপরাধ জগতে প্রবেশ করে। প্রথমদিকে ছোটখাটো অপরাধে যুক্ত থাকলেও পরে সে নিজের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। ২০১৭-১৮ সালে সে তার সহযোগী শ্যাম পুনিয়ার সঙ্গে “০০৭ গ্যাং” গঠন করে। পুনিয়া জেলে যাওয়ার পর সে নিজেই গ্যাংয়ের নেতৃত্ব গ্রহণ করে এবং পশ্চিম রাজস্থানে একটি সক্রিয় অপরাধী সংগঠন হিসেবে তা প্রতিষ্ঠা করে।
পরবর্তীতে ০০২৯ গ্যাং, সরপঞ্চ গ্যাং এবং উজারাম গ্যাংয়ের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
অপরাধ নেটওয়ার্কের বিস্তার
তদন্তকারী সংস্থার মতে, রাজু মাঞ্জু তার কার্যক্রম স্থানীয় অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। সে ভারতমালা সড়ক প্রকল্প ও টোল প্লাজার সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারদের হুমকি দিয়ে অবৈধ অর্থ আদায়ের নেটওয়ার্ক তৈরি করে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা এবং সামাজিক মাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শন ও প্রচারে সক্রিয় ছিল।
পরবর্তী সময়ে সে মাদক ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হয়, যার ফলে তার নেটওয়ার্ক জোধপুর থেকে শ্রীগঙ্গানগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
সামাজিক পরিচয়ের আড়াল
কর্তৃপক্ষের মতে, নিজের অপরাধ আড়াল করতে রাজু মাঞ্জু সমাজসেবীর পরিচয় তৈরির চেষ্টা করে। সে “রামদেব গোশালা” নামে একটি সংস্থা গঠন করে এবং এর মাধ্যমে জনসমাগমে অংশ নিয়ে নিজেকে সামাজিক কর্মী হিসেবে উপস্থাপন করে।
এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সে চাঁদা সংগ্রহ এবং যুবকদের গ্যাংয়ে যুক্ত করার কাজও করত। জানা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে তার প্রায় ২ লক্ষের বেশি অনুসারী ছিল।
গ্রেপ্তারের প্রভাব
পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থার মতে, এই গ্রেপ্তার পশ্চিম রাজস্থানে সক্রিয় সংগঠিত অপরাধ চক্রগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ ও মাদক পাচার নেটওয়ার্কের ওপরও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।











