ভারতের অন্যতম প্রাচীন পর্বতমালা আরাবল্লী এখন জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর ১০০ মিটারের কম উচ্চতার আরাবল্লী অঞ্চলে খননের ছাড়পত্র মিলতেই উদ্বেগ বেড়েছে পরিবেশবিদ ও ভূ-বিদ্যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। প্রশ্ন একটাই—এই সিদ্ধান্ত কি ভবিষ্যতে থর মরুভূমির বালি রাজধানী নয়াদিল্লির দিকে ঠেলে দেবে?
বিতর্কের সূত্রপাত, ১০০ মিটারের সংজ্ঞা বদলেই সমস্যা?
সম্প্রতি পাহাড়ের একটি অভিন্ন আইনি সংজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, যেখানে আশপাশের ভূখণ্ড থেকে ১০০ মিটার বা তার বেশি উঁচু এলাকাকেই ‘পাহাড়’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর ফলে আরাবল্লীর বহু ক্ষয়প্রাপ্ত, নিচু শৈলশিরা সরকারি নথি থেকে ‘পাহাড়’ হিসেবে বাদ পড়ছে। আর এখানেই আপত্তি পরিবেশবিদদের।
কেন আরাবল্লী এত গুরুত্বপূর্ণ? শুধু পাহাড় নয়, প্রাকৃতিক ঢাল
গুজরাত থেকে দিল্লি পর্যন্ত প্রায় ৮০০ কিলোমিটার বিস্তৃত আরাবল্লী বিশ্বের প্রাচীনতম পর্বতগুলির একটি। যুগ যুগ ধরে ক্ষয়ের ফলে আজ এর অনেক অংশ পাহাড়ের বদলে টিলা বা উঁচু ভূমিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই নিচু শৈলশিরাগুলিই ধুলোঝড় কমানো, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ভূগর্ভস্থ জল ধরে রাখার ক্ষেত্রে ঢাল হয়ে কাজ করে।
পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, দিল্লির দিকে এগোতে পারে মরুভূমি
বিজ্ঞানীদের মতে, আরাবল্লী দুর্বল হলে থর মরুভূমির বালিয়াড়ি আরও পূর্ব দিকে এগোতে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে হরিয়ানা, রাজস্থান এবং দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে। বাড়তে পারে বায়ুদূষণ, তাপমাত্রা এবং জল সংকট। ভূগর্ভস্থ জলের ‘রিচার্জ’ প্রক্রিয়াও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইনি মানচিত্রে পাহাড় হারালে কী হবে?
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কোনও অঞ্চল আইনি মানচিত্রে পাহাড় হিসেবে চিহ্নিত না থাকলে তা জলবায়ু মডেল, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং নগর পরিকল্পনার বাইরে চলে যায়। ফলে সেখানে খনন, নির্মাণ ও বসতি স্থাপন অনেক সহজ হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কেন্দ্রের আশ্বাস, ‘ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে’
এই বিতর্কে কড়া অবস্থান নিয়েছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। তাঁর দাবি, আরাবল্লী মোট ১.৪৪ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, যার মধ্যে মাত্র ০.১৯ শতাংশ এলাকায় খননের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, “আরাবল্লী নিরাপদ ও সংরক্ষিত। কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন।”
আরাবল্লী পর্বতের ১০০ মিটারের কম উচ্চতার অংশে খননের অনুমতি ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা—আরাবল্লী দুর্বল হলে থর মরুভূমি এগোতে পারে দিল্লি-এনসিআর পর্যন্ত। যদিও কেন্দ্রের দাবি, আরাবল্লী সুরক্ষিত এবং মাত্র ০.১৯ শতাংশ এলাকায় খননের অনুমতি রয়েছে।













