অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহারের সপ্তম বার্ষিকীতে জম্মু ও কাশ্মীরে কড়া নিরাপত্তা, অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা

অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫এ কার্যকরতা প্রত্যাহারের সপ্তম বার্ষিকীতে জম্মু ও কাশ্মীরে পুলিশ পূর্বানুমতি ছাড়া বিক্ষোভ, র‌্যালি ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিজেপি দিনটি উদযাপনের কর্মসূচি নিয়েছে, আর কংগ্রেস, ন্যাশনাল কনফারেন্স ও পিডিপি “কালা দিবস” পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫এ কার্যকরতা প্রত্যাহারের সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলজুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। একদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দিনটিকে একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস, ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) দিনটিকে “কালা দিবস” হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

সম্ভাব্য বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো ধরনের গণবিক্ষোভ, র‌্যালি, মিছিল বা জনসমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে একটি পরামর্শ জারি করেছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সক্ষম কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো ধরনের বিক্ষোভ, র‌্যালি, মিছিল বা জনসমাবেশ আয়োজন করা যাবে না। পুলিশ স্পষ্ট করেছে, নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কসহ একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন নাগরিকদের গুজব থেকে বিরত থাকতে, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ সম্পর্কে অবিলম্বে পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানিয়েছে।

ভারত সরকার ৫ আগস্ট ২০১৯ সালে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ এবং অনুচ্ছেদ ৩৫এ-কে কার্যকরতাহীন করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। একই সিদ্ধান্তের অধীনে তৎকালীন রাজ্যকে পুনর্গঠন করে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।

কেন্দ্র সরকার ও বিজেপি এই সিদ্ধান্তকে জাতীয় একীকরণ, সমঅধিকার এবং উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, একাধিক আঞ্চলিক ও জাতীয় বিরোধী দল এটিকে জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক পরিচয় এবং বিশেষ অধিকারের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করেছে।

বিজেপি সপ্তম বার্ষিকীকে উন্নয়ন ও একীকরণের প্রতীক হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে। দলের নেতাদের মতে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলজুড়ে মিষ্টি বিতরণ করা হবে এবং গত সাত বছরে সম্পন্ন হওয়া উন্নয়নমূলক কাজ, বিনিয়োগ, অবকাঠামো প্রকল্প এবং প্রশাসনিক সংস্কার সম্পর্কে মানুষকে জানানো হবে। জম্মুতে অবস্থিত বিজেপির সদর দপ্তর বিশেষভাবে সজ্জিত করা হয়েছে।

দলের নেতাদের দাবি, অনুচ্ছেদ ৩৭০ অপসারণের পর জম্মু ও কাশ্মীরে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছেছে।

ন্যাশনাল কনফারেন্স, কংগ্রেস এবং পিডিপি দিনটিকে “কালা দিবস” হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পাশাপাশি রাজ্যের মর্যাদাও বাতিল করা হয়েছিল, যা এখনও পুনর্বহাল করা হয়নি।

ন্যাশনাল কনফারেন্স জম্মু ও কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, কেন্দ্র সরকার রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের আশ্বাস দিলেও এখনও সে বিষয়ে কোনো দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়নি।

অন্যদিকে, পিডিপি অনুচ্ছেদ ৩৭০ পুনর্বহাল এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তিকে তাদের প্রধান দাবির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে। কংগ্রেসও রাজ্য ও জেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করছে এবং রাজ্যের অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব-সংক্রান্ত বিষয়গুলি উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ভারতের সাম্প্রতিক সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ঘটনাবলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাত বছর পরও বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্ক, প্রশাসনিক নীতি এবং আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সমর্থকরা এটিকে জম্মু ও কাশ্মীরের উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং জাতীয় একীকরণের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন, অন্যদিকে সমালোচকরা এটিকে অঞ্চলের বিশেষ সাংবিধানিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখেন। সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিষয়টি আবারও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

 

Leave a comment