মাঠে খেলা নয়, মঞ্চে গান নয়—একদিনের জন্য হরিপুর মাঠ যেন পরিণত হল বিশাল রান্নাঘরে। অশোকনগর উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সেরা রাঁধুনি প্রতিযোগিতায় স্বাদ, গন্ধ আর পরিবেশনের অনন্য মেলবন্ধনে জমে উঠল উৎসবের আসর। হাঁড়ি-পাতিলের টুংটাং শব্দ আর সুস্বাদু খাবারের গন্ধে ভরে উঠল গোটা এলাকা।
খোলা মাঠেই রান্নার অভিনব আয়োজন
অশোকনগর উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে হরিপুর মাঠে আয়োজন করা হয় এই রান্না প্রতিযোগিতা। খোলা আকাশের নীচে একের পর এক স্টলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন প্রতিযোগীরা। কোথাও কষছে মশলা, কোথাও ফুটছে দুধ—পুরো মাঠটাই যেন এক বিশাল রান্নাঘরে পরিণত হয়।
স্বাদ ও গন্ধে টেক্কা প্রতিযোগীদের
এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের সৃজনশীলতা ও রান্নার দক্ষতা দিয়ে একে অপরকে টেক্কা দেন। ইলিশ বিরিয়ানি, পাটিয়ালা মুর্গ, বাতাসার পায়েসের মতো ঐতিহ্যবাহী ও অভিনব পদ রান্না করে দর্শকদের মন জয় করেন গৃহিণীরা। সুস্বাদু খাবারের গন্ধে মুহূর্তেই ভিড় জমে যায় প্রতিটি স্টলের সামনে।
কড়া নজরে বিচারকরা
স্বনামধন্য শেফদের একটি প্যানেল প্রতিযোগীদের রান্না সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। স্বাদ, পরিবেশন, রান্নার কৌশল এবং নতুনত্ব—এই সবকটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করেই নম্বর প্রদান করা হয়। বিচারকদের মতে, প্রতিযোগীদের রান্নায় ঘরোয়া স্বাদের সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়া ছিল স্পষ্ট।
কার ঝুলিতে কোন পুরস্কার
বিচারকদের রায় অনুযায়ী, ইলিশ বিরিয়ানি রেঁধে প্রথম স্থান অধিকার করেন রূপালি দাস। পাটিয়ালা মুর্গ প্রস্তুত করে দ্বিতীয় স্থান দখল করেন রাজর্ষি সাহা। পাশাপাশি বাতাসার পায়েস রেঁধে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন আরেক প্রতিযোগী। বিজয়ীদের হাতে বিশেষ পুরস্কার তুলে দেন আয়োজকরা।
অশোকনগর উৎসবের রঙ আরও গাঢ়
উল্লেখ্য, অশোকনগর উৎসব উপলক্ষে হরিপুর মাঠে বসেছে বিশাল মেলা। প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকসংগীত, নৃত্য ও নানা বিনোদনমূলক আয়োজন উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। তার মধ্যেই এই রান্না প্রতিযোগিতা উৎসবের উন্মাদনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
অশোকনগর উৎসবের অঙ্গ হিসেবে হরিপুর মাঠে অনুষ্ঠিত হল অভিনব সেরা রাঁধুনি প্রতিযোগিতা। ইলিশ বিরিয়ানি থেকে পাটিয়ালা মুর্গ—স্বাদ আর গন্ধে দর্শক ও বিচারকদের মুগ্ধ করলেন প্রতিযোগীরা।











