ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং যত সহজ হয়েছে, সাইবার প্রতারণার কৌশলও ততটাই বেড়েছে। এখন ব্যাঙ্কের নাম, লোগো কিংবা পরিচিত SMS থ্রেড ব্যবহার করেও প্রতারকরা ভুয়ো মেসেজ পাঠাতে পারে। তাই কোনও SMS পেলেই তড়িঘড়ি লিঙ্কে ক্লিক করা বা তথ্য দেওয়া বিপজ্জনক। কয়েকটি বিষয় খেয়াল করলেই প্রাথমিকভাবে বোঝা সম্ভব, মেসেজটি আসল নাকি প্রতারণার ফাঁদ।
KYC-এর নামে ভয় দেখালেই সতর্ক
ভুয়ো ব্যাঙ্ক SMS-এ প্রায়ই বলা হয়, KYC আপডেট না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, ডেবিট কার্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে অথবা কোনও পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে। আবার কখনও ক্যাশব্যাক বা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার লোভ দেখিয়ে দ্রুত কোনও লিঙ্কে যেতে বলা হয়।এই ধরনের মেসেজে সাধারণত গ্রাহককে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার চেষ্টা থাকে। তাই এমন SMS পেলেই আগে থামুন, তারপর যাচাই করুন।
SMS-এ থাকা লিঙ্কে সরাসরি ক্লিক নয়
অচেনা কোনও লিঙ্ক দেখলেই সেটিতে ক্লিক করবেন না। বিশেষ করে URL-টি ভালো করে লক্ষ্য করুন। ব্যাঙ্কের আসল ওয়েবসাইটের সঙ্গে সামান্য মিল থাকা কোনও অদ্ভুত ঠিকানাও প্রতারণার ফাঁদ হতে পারে।তথ্য যাচাই করার জন্য SMS-এর লিঙ্ক ব্যবহার না করে সরাসরি ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল অ্যাপ খুলুন অথবা নিজে ব্রাউজারে ব্যাঙ্কের পরিচিত ওয়েবসাইটের ঠিকানা লিখুন।
প্রেরকের নাম দেখেই বিশ্বাস করবেন না
অনেকেই ভাবেন, পরিচিত ব্যাঙ্কের নামের SMS থ্রেডে মেসেজ এলেই সেটি আসল। কিন্তু এটিও সবসময় নিরাপদ নয়। প্রতারকরা এমনভাবে মেসেজ পাঠাতে পারে যাতে সেটি দেখতে আগের আসল মেসেজের মতোই মনে হয়।বানান, বাক্য গঠন, অস্বাভাবিক URL এবং অপ্রত্যাশিত অফারের মতো বিষয় খেয়াল করুন। তবে ভুল বানান না থাকলেও কোনও SMS যে নিশ্চিতভাবে আসল, এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না।
OTP, ATM PIN, CVV কখনও শেয়ার করবেন না
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। কোনও ব্যক্তি বা মেসেজ যদি আপনার কাছে OTP, ATM PIN, CVV, UPI PIN কিংবা ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের পাসওয়ার্ড চায়, তা কখনও দেবেন না।ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার আগে মনে রাখুন—শুধু SMS এসেছে বলেই সেটিকে বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই।
সন্দেহ হলে মেসেজের নম্বরে ফোন নয়
SMS-এ দেওয়া ফোন নম্বরে কল করে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবেন না। পরিবর্তে ডেবিট কার্ড, পাসবুক বা ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল অ্যাপ থেকে পাওয়া কাস্টমার কেয়ার নম্বরে যোগাযোগ করুন।কোনও সন্দেহজনক লেনদেন বা অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে ব্যাঙ্ককে সরাসরি বিষয়টি জানান।
ভুল করে লিঙ্কে ক্লিক করলে কী করবেন?
ভুল করে লিঙ্ক খুলে ফেললে বা কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে ফেললে বিষয়টি হালকাভাবে নেবেন না। দ্রুত ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিন। ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের পাসওয়ার্ড ফাঁস হয়ে থাকলে তা পরিবর্তন করুন।
মনে রাখুন ৫টি নিয়ম
অচেনা SMS-এর লিঙ্কে ক্লিক করবেন না।
OTP, PIN, CVV বা UPI PIN কাউকে দেবেন না।
KYC বা অ্যাকাউন্ট বন্ধের ভয় দেখালে তাড়াহুড়ো করবেন না।
SMS-এ দেওয়া নম্বরে ফোন না করে ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করুন।
ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরাসরি অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।
ব্যাঙ্কের নামে আসা SMS সবসময় যে সত্যি, তা নয়। KYC আপডেট, অ্যাকাউন্ট বন্ধ, ক্যাশব্যাক বা জরুরি লেনদেনের অজুহাতে প্রতারকরা গ্রাহকদের লিঙ্কে ক্লিক করানোর চেষ্টা করে। কীভাবে বুঝবেন মেসেজটি আসল নাকি জাল? রইল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা।











