Bankura Sammilani Medical College: জঙ্গলমহলে স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় বদল! ১২০ কোটির হাইটেক হাসপাতাল প্রকল্প, ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ মিলবে জরুরি চিকিৎসা

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে ১২০ কোটি টাকার নতুন হাসপাতাল প্রকল্পের উদ্যোগ। আধুনিক ট্রমা কেয়ার, নিউরো-আইসিইউ ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা গড়ে উঠলে উপকৃত হবেন জঙ্গলমহলের বহু মানুষ।

বাঁকুড়া: দুর্ঘটনা বা গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়াই অনেক সময় জীবন-মৃত্যুর ফারাক গড়ে দেয়। সেই কথা মাথায় রেখেই বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালকে আরও আধুনিক করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১২০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পে নতুন হাসপাতাল ভবনের পাশাপাশি উন্নতমানের ট্রমা কেয়ার পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদন মিললে জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

১২০ কোটির প্রকল্পে বদলাবে হাসপাতালের পরিকাঠামো

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন হাসপাতাল ভবন তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১২০ কোটি টাকার ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট বা DPR স্বাস্থ্য দফতরের কাছে জমা পড়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আধুনিক ট্রমা কেয়ারে বিশেষ নজর

প্রস্তাবিত নতুন ভবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে অত্যাধুনিক ইমার্জেন্সি ও ট্রমা কেয়ার পরিষেবা। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বা সংকটজনক অবস্থায় থাকা রোগীদের যাতে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এক ছাদের নিচে জরুরি চিকিৎসার একাধিক ব্যবস্থা

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রমা কেয়ার ব্যবস্থায় থাকতে পারে পৃথক ট্রমা ইউনিট, নিউরো-আইসিইউ, ২৪ ঘণ্টার জরুরি অপারেশন থিয়েটার, উন্নত লাইফ সাপোর্ট ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত ট্রমা টিম। এই পরিষেবাগুলি একসঙ্গে চালু করা সম্ভব হলে গুরুতর আহত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা যাবে।

‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ চিকিৎসা পেলে বাঁচতে পারে প্রাণ

দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে আহত রোগীকে দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই জটিলতা কমানো এবং প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব। বাঁকুড়ায় উন্নত ট্রমা কেয়ার চালু হলে এই অঞ্চলের দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

চার জেলার মানুষের জন্য বড় সুবিধা

শুধু বাঁকুড়া নয়, প্রস্তাবিত এই আধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামোর সুফল পেতে পারেন পার্শ্ববর্তী পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মানুষও। দুর্ঘটনার পর দূরের বড় শহরে রোগী স্থানান্তরের আগে বাঁকুড়াতেই জরুরি চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

শুরু হয়েছে পরিকাঠামো পরিদর্শনের কাজ

হাসপাতালের নতুন ভবনের সম্ভাব্য নকশা ও নির্মাণ পরিকল্পনা খতিয়ে দেখতে আর্কিটেক্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিনিধিরা পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গিয়েছে। ভবিষ্যতে রোগীর সংখ্যা এবং চিকিৎসা পরিষেবার চাহিদা কতটা বাড়তে পারে, সেই বিষয়গুলিও পরিকল্পনার সময় বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় প্রকল্প

বর্তমানে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই নির্মাণকাজের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত হওয়ার পাশাপাশি জঙ্গলমহলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাতেও নতুন গতি আসতে পারে।

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে প্রায় ১২০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত হাসপাতাল ভবনে অত্যাধুনিক ইমার্জেন্সি ব্লক ও ট্রমা কেয়ার পরিষেবা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। উপকৃত হতে পারেন বাঁকুড়ার পাশাপাশি পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের বহু মানুষ।

Leave a comment