Rare Insect Found in Bankura: প্রথম দেখায় মনে হবে শাল গাছের একটি কচি পাতা। কিন্তু একটু কাছে গিয়ে খুঁটিয়ে তাকালেই চোখ কপালে উঠবে! পাতার আড়ালে নয়, পাতার মতো ছদ্মবেশ নিয়েই দিব্যি বসে রয়েছে এক বিরল পতঙ্গ। বাঁকুড়ার সোনামুখীর জঙ্গলে বহু বছর পর এমনই এক ‘মুকুট ফড়িং’-এর সন্ধান মিলতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বন দফতর ও পরিবেশপ্রেমী মহলে।
পাতার ছদ্মবেশেই লুকিয়ে বিরল পতঙ্গ
সোনামুখী ব্লকের মানিকবাজার এলাকার শাল জঙ্গলে সম্প্রতি এই বিরল পতঙ্গটির দেখা মেলে। বন দফতরের প্ল্যান্টেশন পরিদর্শনের সময় সোনামুখী রেঞ্জের রেঞ্জার নিলয় রায় প্রথমে শাল চারার পাতার উপর পতঙ্গটিকে দেখতে পান। দূর থেকে সেটিকে পাতারই অংশ বলে মনে হলেও পরে সন্দেহ হওয়ায় ছবি তুলে বিশ্লেষণ করা হয়। তখনই নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি আসলে বিরল Hooded Grasshopper।
কী এই ‘মুকুট ফড়িং’?
এই পতঙ্গের বৈজ্ঞানিক নাম Teratodes monticollis। ইংরেজিতে এটি Hooded Grasshopper নামে পরিচিত। এর অন্যতম আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল অসাধারণ প্রাকৃতিক ছদ্মবেশ। শরীরের গঠন ও রং অনেকটাই পাতার মতো হওয়ায় গাছের পাতার মধ্যে অনায়াসে মিশে যেতে পারে। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যই শিকারিদের চোখ এড়িয়ে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।
পশ্চিমবঙ্গে অত্যন্ত বিরল উপস্থিতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার কয়েকটি বনাঞ্চলে এই পতঙ্গের দেখা পাওয়া গেলেও পশ্চিমবঙ্গে এটি অত্যন্ত বিরল। এর আগে ঝাড়গ্রামের লোধাশুলিতে এই প্রজাতির সন্ধান মিলেছিল। দীর্ঘ সময় পর ফের জঙ্গলমহলের বাঁকুড়ায় এমন পতঙ্গের দেখা মেলায় রাজ্যের জীববৈচিত্র্য নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শাল-সেগুনের জঙ্গলই পছন্দের ঠিকানা
বিজ্ঞানীদের মতে, শাল, সেগুন ও চন্দন গাছে সমৃদ্ধ বনাঞ্চল এই পতঙ্গের উপযুক্ত আবাসস্থল। সোনামুখী ও আশপাশের ঘন শালবন, ঝোপঝাড় এবং অনুকূল পরিবেশ এই বিরল প্রজাতির টিকে থাকা ও বংশবিস্তারের জন্য সহায়ক হতে পারে। ফলে আগামী দিনে এই এলাকায় আরও এমন বিরল পতঙ্গের সন্ধান মিলতে পারে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নজরদারি বাড়াচ্ছে বন দফতর
রেঞ্জার নিলয় রায়ের নজরে আসার পর পতঙ্গটির ছবি বিশ্লেষণ করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ছবিগুলি বন দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিরল এই প্রজাতির উপস্থিতি ও আবাসস্থল সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করতে এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
বাঁকুড়ার সোনামুখীর মানিকবাজারের শাল জঙ্গলে সন্ধান মিলেছে বিরল প্রজাতির ‘মুকুট ফড়িং’-এর। বৈজ্ঞানিক নাম Teratodes monticollis, ইংরেজিতে পরিচিত Hooded Grasshopper নামে। পাতার মতো শরীরের কারণে গাছের সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকে যে খালি চোখে সহজে চেনাই কঠিন। বহু বছর পর পশ্চিমবঙ্গে এই পতঙ্গের দেখা মেলায় বন দফতর ও পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উৎসাহ।










