গরম পড়তেই যখন বিয়ারের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ই বড় ধাক্কা বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গ্যাস সরবরাহে টান পড়েছে, আর তার ফলেই বাড়ছে প্যাকেজিংয়ের খরচ। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিয়ার প্রস্তুতকারীরা দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে গ্যাস সঙ্কট, প্রভাব বিশ্ববাজারে
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। ভারত যেহেতু আমদানিনির্ভর দেশ, বিশেষ করে Qatar-এর উপর প্রায় ৪০% গ্যাসের জন্য নির্ভরশীল, তাই এই সংকট সরাসরি উৎপাদন খরচে প্রভাব ফেলছে।
প্যাকেজিং খরচে বিস্ফোরণ, কাচের বোতলেই বড় চাপ
Brewers Association of India জানিয়েছে, কাচের বোতলের দাম প্রায় ২০% বেড়েছে। কাগজের কার্টনের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। লেবেল, টেপ-সহ অন্যান্য প্যাকেজিং উপকরণের দামও লাফিয়ে বেড়েছে। এই সংস্থার আওতায় Heineken, AB InBev এবং Carlsberg-এর মতো বড় ব্র্যান্ড রয়েছে।
উৎপাদনে ধাক্কা, কমছে সরবরাহ
গ্যাসের অভাবে উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদের মতো কাচ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে উৎপাদন প্রায় ৪০% কমেছে। ফলে শুধু বিয়ারের বোতল নয়, জুস, কেচাপসহ অন্যান্য পণ্যেও বোতলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
গরমের মরশুমেই বাড়ছে দুশ্চিন্তা
ভারতে গরমকাল মানেই বিয়ারের পিক সিজন। ঠিক এই সময়েই ক্যান ও বোতলের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অ্যালুমিনিয়াম ক্যান প্রস্তুতকারীরাও জোগান কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
১২-১৫% দাম বাড়ার আবেদন
উৎপাদন খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাগুলি। তাই বিভিন্ন রাজ্য সরকারের কাছে ১২-১৫% পর্যন্ত দাম বাড়ানোর অনুমতি চাওয়া হচ্ছে। তবে ভারতে মদের ব্যবসা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সহজে দাম বাড়ানো সম্ভব নয়।
শুধু বিয়ার নয়, বাড়ছে জলের বোতলের দামও
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে বোতলজাত জলের বাজারেও। প্লাস্টিক ও গ্যাসের দাম বাড়ায় কিছু সংস্থা ইতিমধ্যেই ১০-১১% পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার Lotte Chilsung Beverage-ও জানিয়েছে, তাদের হাতে মাত্র কয়েক মাসের স্টক রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে গ্যাসের সঙ্কট তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কাচ ও প্যাকেজিং শিল্পে। ফলে ভারতে বিয়ারের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ১২-১৫% পর্যন্ত দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুধু বিয়ার নয়, বোতলজাত জল ও অন্যান্য পানীয়ের দামও বাড়তে পারে।












