শীত পড়তেই টেবিলে বেগুনপোড়া-ভাজা! শরীরে কী প্রভাব ফেলে, জানালেন বিশেষজ্ঞ

শীত পড়তেই বাড়ে বেগুনপোড়া ও বেগুনভাজার চাহিদা, কিন্তু শরীরে এর প্রভাব কেমন? বেগুনের ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ওজন কমানোর উপকারিতা জানালেন বিশেষজ্ঞ।

স্বাস্থ্যটিপস শীতকাল: শীতের শুরুতেই বাঙালির ঘরে বেগুনপোড়া ও বেগুনভাজার চাহিদা তুঙ্গে। কিন্তু এই জনপ্রিয় সবজিটির পুষ্টি বিজ্ঞান কী বলে? চিকিৎসক রাজকুমার সিং-এর মতে, বেগুনে থাকা ভিটামিন সি, কে ও বি৬ ইমিউনিটি বাড়ায়, হাড় শক্ত করে ও স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে। নাসুনিন নামের বিশেষ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে রক্ষা করে এবং ত্বককে রাখে উজ্জ্বল। একই সঙ্গে কম ক্যালোরি ও উচ্চ ফাইবার শীতকালে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই শীত পড়তেই বেগুন খাওয়া সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী।

বেগুনে ভরপুর ভিটামিন, শীতের দিনে রক্ষা ইমিউন সিস্টেম

বেগুনে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় ভিটামিন সি, যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শীতের মরসুমে যখন সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ে, তখন এই ভিটামিন সি-র উপস্থিতি আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।ভিটামিন কে হাড়কে সুস্থ রাখে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। অন্যদিকে ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে। ফলে বেগুন নিয়মিত খেলে সার্বিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়।

কোষকে রক্ষা করে নাসুনিন, ধীর করে বার্ধক্য

বেগুনে পাওয়া নাসুনিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। এটি শরীরের ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল কমিয়ে কোষের বয়স বাড়ার গতি ধীর করে। ফলে ত্বক থাকে উজ্জ্বল, এবং সামগ্রিক কোষগত ক্ষয় কম হয়।এই নাসুনিন মস্তিষ্কের কোষেও সুরক্ষা দেয় বলে বহু গবেষণায় মত পাওয়া যায়। তাই স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রেও বেগুন একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

কম ক্যালোরি ও বেশি ফাইবার, ওজন কমাতে সাহায্য করে বেগুন

শীতকালে শারীরিক পরিশ্রম কিছুটা কমে যায়। তার সঙ্গে বাড়ে জমকালো খাওয়াদাওয়া। এই সময়ে বেগুন দারুণ একটি লো-ক্যালরি অপশন। এতে ক্যালোরি তুলনামূলক কম থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।বেগুনে থাকা ফাইবার হজমশক্তিকে উন্নত করে, পেট ভরিয়ে রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। ফলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায়, আবার অতিরিক্ত ক্যালোরির চাপ বাড়ে না।

শীতে বেগুনপোড়া ও বেগুনভাজার বিশেষত্ব কী?

ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের মেটাবলিজম কিছুটা ধীর হয়। বেগুনপোড়া বা বেগুনভাজা সহজে হজম হয় এবং শরীরকে তাপ দেয়। পোড়া বা ভাজা বেগুনে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকর থাকে এবং শরীরকে উষ্ণ রাখে।বাঙালির শীতে দই-বেগুন, বেগুনপোড়া, বেগুনভাজা বা বেগুনের চচ্চড়ির বিশেষ জনপ্রিয়তা তাই অকারণ নয়—এতে আছে পুষ্টি, স্বাদ ও স্বাস্থ্য–—সবই একসঙ্গে।

শীতের বাজারে বেগুনপোড়া ও বেগুনভাজার কদর বাড়ে। কিন্তু শরীরের পক্ষে এই সবজিটি কতটা উপকারী? চিকিৎসক রাজকুমার সিং জানান, বেগুনে থাকা ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী রাখে, বার্ধক্য কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শীতকালে এর পুষ্টিগুণ আরও কার্যকর হয়ে ওঠে।

 

Leave a comment