বেগুসরাই হোটেল ধর্ষণ ও মারধর মামলায় প্রধান অভিযুক্ত রোহিত কুমার গ্রেফতার

বেগুসরাইয়ের ব্লু ডায়মন্ড হোটেল ধর্ষণ ও মারধর মামলায় প্রধান অভিযুক্ত রোহিত কুমারকে সমस्तीপুরের মহিউদ্দিননগর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলায় নামজদ দুই অভিযুক্তই এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
বেগুসরাই হোটেল ধর্ষণ ও মারধর মামলায় প্রধান অভিযুক্ত রোহিত কুমার গ্রেফতার
Photo Credit / Attribution: Google

বেগুসরাইয়ের আলোচিত হোটেল ধর্ষণ ও মারধরের মামলায় পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত রোহিত কুমারকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, ঘটনার পর থেকে পলাতক রোহিত নেপালে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং সমस्तीপুর জেলার মহিউদ্দিননগর এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল। প্রযুক্তিগত নজরদারি ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের বিশেষ দল ঘেরাও করে তাকে গ্রেফতার করে। এই মামলায় দ্বিতীয় নামজদ অভিযুক্ত বিক্রম কুমারকে এর আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রধান অভিযুক্তের গ্রেফতারের পর মামলায় নামজদ দুই অভিযুক্তই পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

মামলাটি বেগুসরাই নগর থানা এলাকার আলকা সিনেমার কাছে অবস্থিত ব্লু ডায়মন্ড হোটেলের সঙ্গে সম্পর্কিত। পুলিশের মতে, ২৭ সেপ্টেম্বর হোটেলের একটি ঘরে এক তরুণীর সঙ্গে ধর্ষণ, মারধর এবং ভিডিও ধারণের ঘটনা সামনে আসে। পরে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ভিডিও ইন্টারনেট মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২৮ সেপ্টেম্বর নগর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য একাধিক দল সক্রিয় করা হয়।

এফআইআর দায়েরের পর বিক্রম কুমারকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত রোহিত কুমার পালিয়ে যায়। তাকে খুঁজতে পুলিশ সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালাচ্ছিল। এর মধ্যেই পুলিশ জানতে পারে, রোহিত সমस्तीপুর জেলার মহিউদ্দিননগর এলাকায় রয়েছে এবং সেখান থেকে নেপালের দিকে পালানোর চেষ্টা করতে পারে। তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান জোরদার করে এবং ঘেরাও করে তাকে গ্রেফতার করে।

রোহিতকে গ্রেফতারের পর পুলিশ দল তাকে বেগুসরাইয়ে ফিরিয়ে আনছিল। পথে সে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশের মতে, সে প্রস্রাব করার কথা বলে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করে। গাড়ির গতি কমতেই সে গাড়ি থেকে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশকর্মীরা তার পিছু ধাওয়া করে তাকে ফের ধরে ফেলেন। পালানোর চেষ্টা এবং পড়ে যাওয়ার সময় তার পায়ে গুরুতর চোট লাগে।

চোট পাওয়ার পর পুলিশ প্রথমে বচ্ছওয়াড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তার চিকিৎসা করায়। পরে তাকে আরও চিকিৎসার জন্য বেগুসরাই সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে তার চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হওয়ার পর পুলিশ তাকে মামলাটি নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

পুলিশের মতে, গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত রোহিত কুমার ভগবানপুর থানা এলাকার দামোদরপুর ওয়ার্ড নম্বর চার-এর বাসিন্দা। অন্য অভিযুক্ত বিক্রম কুমারের সঙ্গে বেগুসরাইয়ের লোহিয়ানগর এলাকার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ রিপোর্টে দুজনের মধ্যে আত্মীয়তার কথাও উঠে এসেছে। পুলিশ এখন দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সব দিক স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে।

তদন্তে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করছে পুলিশ। ২৭ সেপ্টেম্বরের সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। পাশাপাশি রিসেপশনের এন্ট্রি রেজিস্টারও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তের সময় হোটেলের ঘর এবং সেখানে অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর যাতায়াত সম্পর্কিত ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়েছে।

পুলিশের মতে, সিসিটিভি ফুটেজে প্রধান অভিযুক্ত রোহিতকে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরে ভুক্তভোগীর হোটেলে পৌঁছানো এবং দুজনের একটি ঘরের দিকে যাওয়ার গতিবিধিও ফুটেজে দেখা গেছে। ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ফুটেজও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ঘরের ভিতরে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত, মেডিক্যাল রিপোর্ট, ভুক্তভোগীর বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।

পুলিশ ডিজিটাল প্রমাণকেও তদন্তের অংশ করেছে। পুলিশের মতে, প্রধান অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে এবং ফোনটিতে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ভিডিও ছিল বলে পুলিশের দাবি। মোবাইলটি তদন্তের জন্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ডিজিটাল প্রমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভিডিওটি ইন্টারনেট মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছিল। এরপর সংশ্লিষ্ট নম্বর ব্লক করানোর ব্যবস্থা করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার মণীশ নিজে তদন্তের তদারকি করেন। হোটেলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছিল। পুলিশ প্রযুক্তিগত নজরদারির পাশাপাশি সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেই প্রক্রিয়াতেই সমस्तीপুরের মহিউদ্দিননগরে পৌঁছায়।

পুলিশের মতে, এফআইআর দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই নামজদ অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রথমে বিক্রম কুমারকে বেগুসরাই থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে প্রধান অভিযুক্ত রোহিত কুমারকে সমस्तीপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ এখন দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করছে, যাতে ঘটনার ক্রম, হোটেলে পৌঁছানোর পরিস্থিতি এবং ডিজিটাল প্রমাণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়।

মামলায় ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে। পাশাপাশি আদালতে তার বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও বয়ানের পাশাপাশি মেডিক্যাল রিপোর্ট, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, এন্ট্রি রেজিস্টার, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ তদন্তের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের জন্য প্রধান অভিযুক্তের গ্রেফতার গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে, কারণ ঘটনার পর থেকে সে পলাতক ছিল। সমस्तीপুরে তার পৌঁছানো এবং সেখান থেকে আরও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পুলিশের দাবি, রোহিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও তথ্য জানা যেতে পারে। তবে যেকোনো অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারপ্রক্রিয়া এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

ইন্টারনেট মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় আসে। ভিডিওর প্রসার বন্ধ করতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট নম্বর ব্লক করানোর ব্যবস্থা করে এবং ডিজিটাল মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত প্রমাণও সংরক্ষণ করে। মামলায় ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং আপত্তিকর সামগ্রীর আরও প্রসার বন্ধ করাও পুলিশের তদন্তের অংশ।

প্রধান অভিযুক্তের গ্রেফতারের পর পুলিশ এখন তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার দিকে নজর দিচ্ছে। রোহিত সুস্থ হলে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনার আগে ও পরে সে কোন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগে ছিল এবং ঘটনার পর কোথায় কোথায় আশ্রয় নিয়েছিল, তাও পুলিশ খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তির ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হবে।

পুলিশের জব্দ করা মোবাইল ফোন এবং হোটেল থেকে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজ ঘটনার সময়রেখা আরও স্পষ্ট করতে সহায়তা করতে পারে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ভিডিও কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তা বন্ধ করতে কী কী ডিজিটাল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখছে। ফরেনসিক তদন্ত থেকে পাওয়া তথ্যও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বেগুসরাই পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় নামজদ দুই অভিযুক্তই এখন গ্রেফতার হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত রোহিত কুমারকে সমस्तीপুরের মহিউদ্দিননগর থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং অন্য অভিযুক্ত বিক্রম কুমারকে এর আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারের পর পুলিশ গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় পালানোর চেষ্টা করলে রোহিত আহত হয় এবং পরে তার চিকিৎসা করানো হয়।

বর্তমানে প্রধান অভিযুক্তের চিকিৎসা পুলিশি নজরদারিতে চলছে। এরপর পুলিশ তার বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সিসিটিভি, ডিজিটাল প্রমাণ, মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং ভুক্তভোগীর আদালতে দেওয়া বয়ান তদন্তের অংশ করা হয়েছে।

Leave a comment