পাটনার দিঘা থানা এলাকার কুর্জি এলাকায় বুধবার সকালে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির গলা থেকে সোনার চেন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়েছে বাইকে থাকা এক যুবক ও এক যুবতী। ভুক্তভোগীর দাবি, ছিনিয়ে নেওয়া চেনটির মূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে।
ঘটনাটি সকাল প্রায় আটটার বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী নিজের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় একটি বাইকে এক যুবক ও এক যুবতী সেখানে আসে। সুযোগ বুঝে তারা ভুক্তভোগীর কাছাকাছি বাইক থামিয়ে আচমকাই তাঁর গলা থেকে চেন ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী কিছু বুঝে ওঠার আগেই দু’জন বাইকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
সকালের সময় এই ঘটনা ঘটায় আশপাশে উপস্থিত লোকজনের মধ্যেও আফরাতফরি তৈরি হয়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর দিঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবনীশ কুমার পুলিশ দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য নেয় এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে।
এর পাশাপাশি, যে রাস্তা ও স্থানগুলি দিয়ে বাইকে থাকা যুবক-যুবতী যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। ক্যামেরায় ধরা পড়া ফুটেজের ভিত্তিতে দু’জনের পরিচয় শনাক্ত করা এবং ঘটনায় ব্যবহৃত বাইকের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।
এই ঘটনায় পুলিশের সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করা। পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, অভিযুক্তরা কোন দিক থেকে এসেছিল এবং ঘটনার পর কোন পথ দিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলের পাশাপাশি আশপাশের রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একাধিক ক্যামেরার ফুটেজ মিলিয়ে বাইকে থাকা দু’জনের যাতায়াতের পথ শনাক্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে।
এক্ষেত্রে কোনো ক্যামেরায় বাইকের নম্বর, গাড়ির মডেল বা অভিযুক্তদের মুখ স্পষ্টভাবে ধরা পড়লে তদন্ত এগিয়ে নিতে তা সহায়ক হতে পারে।
পুলিশ পিস্তলের জোরে চেন ছিনিয়ে নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। দিঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবনীশ কুমারের মতে, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীর আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফলে আপাতত পুলিশের তদন্ত চেন ছিনতাইয়ের ঘটনা, অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং তাদের গ্রেফতারের দিকে কেন্দ্রীভূত রয়েছে।
ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া সোনার চেনের মূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছে। তবে চেনটির মূল্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ পুলিশি তদন্ত এবং উপলব্ধ নথির ভিত্তিতে হবে।
পুলিশের কাছে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি ছিনিয়ে নেওয়া চেন উদ্ধার করাও তদন্তের একটি বিষয় হবে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করা গেলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চেনটি কোথায় বিক্রি করা হয়েছে বা কোন মাধ্যমে সেটি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনায় বাইকে যুবকের সঙ্গে যুবতী থাকার বিষয়টিও তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে দু’জনের গতিবিধি কীভাবে ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, তা খতিয়ে দেখবে।
ঘটনার আগে বা পরে দু’জন অন্য কোনো ক্যামেরায় দেখা গিয়েছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। একাধিক ক্যামেরার ফুটেজ মিলিয়ে তাদের আসা-যাওয়ার পথ শনাক্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে।
পুলিশ এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে যে অভিযুক্তরা আগে থেকেই এলাকায় নজরদারি করছিল কি না, অথবা হঠাৎ পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে কি না।
পাটনায় গত কয়েকদিনে চেন ছিনতাইয়ের একাধিক ঘটনা পুলিশের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি কঙ্কড়বাগ পুলিশ চেন ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি চক্রের পর্দাফাঁস করার দাবি করেছিল। পুলিশ এক প্রেমিক যুগলসহ ছয়জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছিল। তাদের কাছ থেকে চারটি সোনার চেন এবং ঘটনায় ব্যবহৃত একটি বাইক উদ্ধার করা হয়েছিল।
পুলিশের মতে, ওই চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক চেন ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল।
তবে কুর্জির সাম্প্রতিক ঘটনাকে ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত করা এখনও তাড়াহুড়ো হবে। দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেনি। কুর্জির ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
কুর্জিতে ঘটনাটি সকালে ঘটেছে। ভুক্তভোগীর বাড়ির বাইরে থেকে চেন ছিনিয়ে নিয়ে বাইকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর আশপাশের মানুষদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সাত লাখ টাকা মূল্যের চেন ছিনিয়ে নেওয়ার তথ্য সামনে আসার পর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।
চেন ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ সাধারণত অপরাধের পদ্ধতি, ব্যবহৃত যানবাহন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং আগে সক্রিয় থাকা অপরাধীদের রেকর্ডের মতো বিষয় খতিয়ে দেখে। কুর্জির ঘটনাতেও তদন্ত কোন দিকে এগোবে, তা সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভুক্তভোগীর বক্তব্য থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করবে।
এই ঘটনায় এখনও কোনো গ্রেফতারের খবর নেই। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।










