মাথায় দু-একটি পাকা চুল দেখা দিলেই চিন্তায় পড়ে যান অনেকেই। বয়স কম অথচ দ্রুত চুল পেকে যাচ্ছে দেখলে তো উদ্বেগ আরও বাড়ে। তখনই শুরু হয় নানা তেল ও ঘরোয়া টোটকার খোঁজ। নারকেল তেল থেকে আমলকী, ভৃঙ্গরাজ কিংবা কারিপাতার তেল—পাকা চুল কালো করার জন্য নানা পরামর্শ পাওয়া যায়। কিন্তু সত্যিই কি কোনও বিশেষ তেল চুলের গোড়া থেকে পাকা বন্ধ করে দিতে পারে? উত্তরটা জানলে অনেক ভুল ধারণাই দূর হবে।
চুল পাকে কেন? রয়েছে মেলানিনের ভূমিকা
চুলের স্বাভাবিক রং নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ। চুলের গোড়ায় এই রঞ্জকের উৎপাদন কমতে শুরু করলে ধীরে ধীরে চুল সাদা বা ধূসর হয়ে যায়।বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল পাকা স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তবে অনেকের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম বয়সেই চুলে পাক ধরতে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিকভাবে তেল ব্যবহার করলেই সমস্যার মূল কারণ দূর হবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
অকালে চুল পাকার পিছনে কী কী কারণ থাকতে পারে?
অল্প বয়সে চুল পাকার ক্ষেত্রে বংশগতির ভূমিকা থাকতে পারে। পরিবারের বাবা-মা বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের কম বয়সে চুল পাকার ইতিহাস থাকলে তার প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মেও দেখা যেতে পারে।এছাড়াও খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এবং থাইরয়েডের মতো কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যাও অকালপক্বতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তাই খুব অল্পবয়সে হঠাৎ করে চুল পাকার প্রবণতা দেখা দিলে শুধু তেলের উপর নির্ভর না করে কারণটি বোঝার চেষ্টা করা জরুরি।
কোন কোন তেল চুলের যত্নে ব্যবহার করা যায়?
চুলের যত্নে বিভিন্ন ধরনের তেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন—
নারকেল তেল: চুল ও মাথার ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
আমলকী তেল: চুলের পরিচর্যায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ভৃঙ্গরাজ তেল: চুলের পরিচর্যায় প্রচলিত একটি উপাদান।
কারিপাতার তেল: ঘরোয়া চুলের যত্নে অনেকেই ব্যবহার করেন।
তবে এই তেলগুলির প্রধান উপকার চুলকে পরিচর্যা করা, শুষ্কতা কমানো এবং চুলকে তুলনামূলক নরম ও স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করা। এগুলিকে পাকা চুল কালো করার নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
শুধু তেল মাখলেই কি সাদা চুল কালো হয়ে যাবে?
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তেল চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করলেও আগে থেকে পেকে যাওয়া চুলকে আবার কালো করে দেওয়ার নিশ্চয়তা কোনও তেলের নেই।চুলের গোড়ায় মেলানিন উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে চুলের রং বদলে গেলে শুধুমাত্র বাইরে থেকে তেল লাগিয়ে সেই প্রক্রিয়া উল্টে দেওয়া যায়—এমন প্রমাণের উপর নির্ভর করা ঠিক নয়।তাই পাকা চুলের সমস্যা থাকলে তেলকে চুলের পরিচর্যার অংশ হিসেবে ব্যবহার করুন, কিন্তু সেটিকে পাকা চুল বন্ধ করার একমাত্র উপায় ভাববেন না।
তেল মাখার সময় এই ভুল করবেন না
তেল লাগানোর সময় মাথার ত্বকে অত্যন্ত জোরে মালিশ করার প্রয়োজন নেই। বরং আলতো হাতে তেল লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে পারেন।কোনও নির্দিষ্ট তেল ব্যবহারের পর যদি মাথার ত্বকে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব বা অন্য কোনও অস্বস্তি দেখা দেয়, তাহলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।
চুলের যত্নে খাবারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ
ভিটামিন বি-১২ এবং ফোলেট-সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রাখার দিকে নজর দিতে পারেন। ডাল, পনির, দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার, সবুজ শাকসবজি, ফল, বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।সুষম খাবার শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির পাশাপাশি চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও সাহায্য করতে পারে।
চুলের রং নির্ভর করে মেলানিনের উপর। চুলের গোড়ায় মেলানিনের উৎপাদন কমে গেলে চুল ধীরে ধীরে সাদা বা ধূসর হতে শুরু করে। নারকেল, আমলকী, ভৃঙ্গরাজ বা কারিপাতার তেল চুল ও মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু শুধুমাত্র তেল মাখলেই পাকা চুল ফের কালো হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।













