Bhajan Clubbing: কলকাতার ভাই-বোনের হাত ধরে নতুন রূপে ভজন! রাঘব-প্রাচীর ‘ভজন ক্লাবিং’-এ মজেছেন তরুণ প্রজন্ম

কলকাতার ভাই-বোন রাঘব ও প্রাচী আগরওয়াল ভজনের সঙ্গে আধুনিক মিউজিক ও কনসার্টের আবহ মিলিয়ে জনপ্রিয় করছেন ‘ভজন ক্লাবিং’। জানুন তাঁদের গল্প।

ভজন শুনতে সাধারণত মন্দির, ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা বাড়ির পুজোর কথাই মনে আসে। কিন্তু সেই ভজন যদি কনসার্টের আলো, আধুনিক মিউজিক এবং তরুণ প্রজন্মের পছন্দের বিটের সঙ্গে মিশে যায়? এমনই এক নতুন ধারার নাম ‘ভজন ক্লাবিং’। আর কলকাতায় বড় হয়ে ওঠা ভাই-বোন রাঘব ও প্রাচী আগরওয়াল এই ধারাকে জনপ্রিয় করে তুলছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠান করে।

ভজনের সঙ্গে আধুনিক মিউজিকের মেলবন্ধন

রাঘব ও প্রাচী ঐতিহ্যবাহী ভজনকে একেবারে অন্যরকম পরিবেশে দর্শকদের সামনে তুলে ধরছেন। তাঁদের অনুষ্ঠানে ভজনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক কনসার্টের আবহ, আলো এবং ইলেকট্রনিক মিউজিক।ফলে ভক্তিগীতির পরিচিত সুরের সঙ্গে তৈরি হচ্ছে আধুনিক মঞ্চের এক নতুন অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এই ধরনের অনুষ্ঠান আকর্ষণ তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে প্রাচীর পরিবেশনা

সম্প্রতি একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে গায়িকা সাধু তিওয়ারির পরিবেশনা শোনার পাশাপাশি তাঁকে ঐতিহ্যবাহী খঞ্জরি বাজাতেও দেখা যায়।অনুষ্ঠানে প্রাচী আগরওয়াল তাঁর ভাই রাঘবের সঙ্গে ভজন পরিবেশন করেন। ‘হনুমান অংশ’ ছবির ‘জব জিদ পর আয়ি পার্বতী’ গানটিও অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এই অনুষ্ঠানটি পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ১১০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের অংশ ছিল। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভক্তিগীতির প্রতি আগ্রহ বাড়ানোও অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।

‘মন কি বাত’-এও প্রশংসা

রাঘব ও প্রাচীর এই উদ্যোগের কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানেও উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের ভজনকে আধুনিক পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ভজনকে শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিসরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

মঞ্চে জুটি, মঞ্চের বাইরে সাধারণ ভাই-বোন

রাঘব ও প্রাচী একসঙ্গে অনুষ্ঠান করতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। তবে মঞ্চের বাইরে তাঁদের সম্পর্ক একেবারে অন্য সাধারণ ভাই-বোনের মতোই।প্রতিবেদন অনুযায়ী, শোয়ের আগে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হয়। প্রাচীর বয়স ২৩ বছর এবং তিনি রাঘবের থেকে ছোট। মজা করে তিনি জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের আগে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই তর্ক-বিতর্ক চলে।রাঘবের কথাতেও উঠে এসেছে সেই ভাই-বোনের সম্পর্কের মজার দিক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মঞ্চে উঠলেই তাঁদের সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বদলে গিয়ে এক ধরনের আধ্যাত্মিক সংযোগে পরিণত হয়।

কলকাতার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক

রাঘব ও প্রাচীর বেড়ে ওঠা কলকাতায়। যদিও বর্তমানে তাঁদের অনুষ্ঠান ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ‘Backstage Siblings’ নামে পরিচিত এই ভাই-বোন জুটি ভজন জ্যামিংয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে নিয়মিত ভ্রমণ করছেন।কলকাতার সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক এখনও গভীর হলেও কাজের সূত্রে এখন তাঁদের সময় কাটছে দেশের নানা শহরে।

কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে বেছে নিলেন ভজন জ্যামিং

ভজন জ্যামিংকে পূর্ণসময়ের পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার আগে রাঘব ও প্রাচী কর্পোরেট ফিনান্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগে তাঁরা নিজেদের চাকরি ছেড়ে সম্পূর্ণভাবে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হন।পরিবারকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানোর ক্ষেত্রেও প্রথমে রাঘবই এগিয়ে এসেছিলেন। পরে প্রাচীও চাকরি ছেড়ে ভাইয়ের সঙ্গে ভজন জ্যামিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।তাঁদের বাবা-মা এই সিদ্ধান্তে সহযোগিতা করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন দুই ভাই-বোন একসঙ্গে দেশজুড়ে অনুষ্ঠান করে তাঁদের এই নতুন ধারার সংগীত পরিবেশন করছেন।

কলকাতায় বড় হয়ে ওঠা ভাই-বোন রাঘব আগরওয়াল ও প্রাচী আগরওয়াল বর্তমানে ‘ভজন ক্লাবিং’ বা ‘ভজন জ্যামিং’-এর মাধ্যমে ভক্তিগীতিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন। ঐতিহ্যবাহী ভজনের সঙ্গে আধুনিক কনসার্টের আবহ, আলো এবং ইলেকট্রনিক বিট মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে তাঁদের বিশেষ পরিবেশনা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a comment