Bhoot Baba: সাজসাজ রব ভূতবাবার মন্দিরে, বিশেষ তিথিতে ভক্তদের ঢল—‘মানত করলেই পূরণ হয় ইচ্ছা’

বারুইপুরের কৃষ্ণমোহন স্টেশন সংলগ্ন ভূতবাবার মন্দিরে বিশেষ তিথিতে বাৎসরিক পুজো। হাজারো ভক্তের সমাগম, দুর্ঘটনা থেকে রক্ষার বিশ্বাস ও মানত পূরণের কাহিনি জানুন বিস্তারিত।

ঘন জঙ্গলের পাশের গা ছমছমে রাস্তা, একের পর এক দুর্ঘটনা আর চুরি-ছিনতাই—এই আতঙ্কের আবহেই গড়ে উঠেছিল ভূতবাবার মন্দির। আজ সেই মন্দিরেই হাজারো পুণ্যার্থীর সমাগম। দক্ষিণ ২৪ পরগনার Baruipur-এর Krishnamohan railway station সংলগ্ন ভূতবাবার মন্দিরে বিশেষ তিথির পুজো ঘিরে এখন উৎসবের আমেজ।

ভূতবাবা কে?

স্থানীয়দের মতে, ভূতবাবা হলেন ভগবান শিবের এক পরম ভক্ত। প্রতিবছর কৃষ্ণপক্ষের নির্দিষ্ট তিথিতে তাঁর বাৎসরিক পুজোর আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিশেষ আরতি ও পূজা।এলাকাবাসীর বিশ্বাস, বাবার কৃপায় দুর্ঘটনা ও অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা মেলে।

মানত করলেই পূরণ ইচ্ছা

বারুইপুর ছাড়াও Jaynagar Majilpur, Mathurapur, Mandirbazar ও Kultali থেকে হাজার হাজার ভক্ত মন্দিরে ভিড় জমান।মন্দিরের পুরোহিতদের দাবি, এই বিশেষ তিথিতে বাবার কাছে মানত করলে জীবনে বড় ক্ষতি আসে না এবং মনস্কামনা দ্রুত পূরণ হয়। পুজোর দিন ভক্তদের মধ্যে ভোগও বিতরণ করা হয়।

শেওড়া গাছের গোড়ায় শুরু

জনশ্রুতি অনুযায়ী, আগে এই এলাকার নাম ছিল ‘শূলিপোতা’। ঘন শেওড়া গাছে ঢাকা জঙ্গলের মাঝে একটি গাছের গোড়াতেই প্রথম পুজো শুরু হয়। মহিলারা গাছে বাতাসা বেঁধে মানত করতেন।প্রায় ৪৫-৫০ বছর আগে আদি গঙ্গার পাশের জঙ্গল পরিষ্কার করে বর্তমান মন্দির নির্মাণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

স্থানীয় বাসিন্দা রবীন মণ্ডলের উদ্যোগে মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। কুমোরহাট এলাকার পুরোহিত পরিবার বংশপরম্পরায় এখানে পুজো করে আসছেন। বর্তমানে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার নিয়মিত পুজো অনুষ্ঠিত হয়।

দুর্ঘটনা থেকে ‘রক্ষা’?

একসময় এই জঙ্গলঘেরা রাস্তা ছিল দুর্ঘটনা ও অপরাধপ্রবণ এলাকা। স্থানীয়দের কথায়, ভয়ে সবাই ভূতবাবাকে স্মরণ করতেন। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে নাকি আর বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি মন্দিরের সামনে—এমনটাই বিশ্বাস ভক্তদের।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ভূতবাবার মন্দিরে বিশেষ তিথিতে বাৎসরিক পুজোকে কেন্দ্র করে উপচে পড়ল ভক্তসমাগম। স্থানীয়দের বিশ্বাস, দুর্ঘটনা ও অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা করেন ‘জাগ্রত’ ভূতবাবা। মানত করলে দ্রুত পূরণ হয় মনস্কামনা।

Leave a comment