অবৈধ পাথর কারবারে কড়া রাশ! বীরভূমে দু’দিনেই কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

বীরভূমে অবৈধ পাথর খাদান ও DCR কারবারে কড়া নজরদারি শুরু হতেই মাত্র দু’দিনে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করল রাজ্য সরকার। প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপে চাঞ্চল্য।

দীর্ঘদিন ধরে বীরভূমে অবৈধ পাথর খাদান ও বেআইনি DCR চালান নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। এবার সেই কারবারে লাগাম টানতে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে বদলাতে শুরু করেছে পরিস্থিতি। সরকারি তত্ত্বাবধানে নতুন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরই রাজ্যের আয় বেড়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।

চার দফতরের যৌথ নজরদারিতে নতুন ব্যবস্থা

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভূমি দফতর, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন এবং মোটর ভেহিকল বিভাগ যৌথভাবে DCR চালান ইস্যু ও নজরদারির দায়িত্ব নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ মিনারেল ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনের স্বীকৃত চালান ছাড়া আর কোনও পরিবহণকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে বীরভূম জেলায় মোট ৯টি DCR চেকগেট চালু রয়েছে।

দু’দিনেই রাজস্বে বড় উল্লম্ফন

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর প্রথম দিনেই ৯টি চেকগেট থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। দ্বিতীয় দিনে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকায়। আধিকারিকদের অনুমান, আগামী দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব জমা পড়তে পারে রাজ্যের কোষাগারে।

এতদিন টাকা কোথায় যেত?’ প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক

রাজস্ব বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পাথর খাদান ও DCR কারবারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ বেহাত হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, নতুন ব্যবস্থার ফলে স্বচ্ছতা বাড়ছে এবং বেআইনি কারবারে বড় ধাক্কা লেগেছে।

অবৈধ খাদানের বিরুদ্ধে আরও কড়া নজরদারি

জেলার মহম্মদবাজার, রামপুরহাট, ময়ূরেশ্বর, নলহাটি ও মুরারই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ পাথর খাদানের অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের দাবি, নতুন চেকগেট ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে পাথর পাচার এবং বেআইনি পরিবহণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগামী দিনেও এই নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

বীরভূমে অবৈধ পাথর খাদান ও বেআইনি DCR চালানের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। সরকারি নজরদারিতে নতুন রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা চালু হতেই মাত্র দু’দিনে রাজ্যের কোষাগারে জমা পড়েছে কয়েক কোটি টাকা। প্রশাসনের দাবি, আগামী দিনে এই অঙ্ক আরও বাড়বে। অন্যদিকে এতদিন রাজস্ব কোথায় যেত, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

Leave a comment