বর্ষার নদী পারাপারে ফের বড়সড় বিপদের আশঙ্কা। খড়ি নদী পার হওয়ার সময় হঠাৎ কচুরিপানার স্রোত এসে ধাক্কা দেওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল যাত্রীবোঝাই নৌকা। আতঙ্কে চিৎকার শুরু করে দেন যাত্রীরা। নৌকায় থাকা স্কুলপড়ুয়াদের নিয়েও তৈরি হয় চরম উদ্বেগ। তবে সৌভাগ্যক্রমে নৌকাটি তখন নদীর পাড়ের একেবারে কাছে থাকায় স্থানীয়দের তৎপরতায় সকলকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
কচুরিপানার ধাক্কায় মুহূর্তে উল্টে গেল নৌকা
শুক্রবার সকালে পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাট থানার দাদপুর-কুতিরডাঙা এলাকায় ঘটে এই ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়ি নদী পেরিয়ে দাদপুরের দিকে যাচ্ছিল একটি নৌকা। তাতে ছিলেন প্রায় ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন স্কুলপড়ুয়াও ছিল।পাড়ে পৌঁছনোর ঠিক আগেই আচমকা নদীতে ভেসে আসা একটি বড় কচুরিপানার স্তূপ নৌকায় ধাক্কা মারে। নদীর স্রোতের চাপে মুহূর্তের মধ্যে নৌকার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এরপরই সেটি উল্টে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয়রা
নৌকা উল্টে যেতেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি। সেই আওয়াজ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। যাত্রীরাও নৌকা থেকে লাফ দিয়ে এবং স্থানীয়দের সাহায্যে কোনওরকমে নদীর পাড়ে উঠে আসেন।নৌকার মাঝি গণেশ চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় কোনও যাত্রী আহত হননি। তবে নৌকাটি সম্পূর্ণভাবে নদীর জলে ডুবে গিয়েছে।
বর্ষায় বাড়ে নদী পারাপারের ঝুঁকি
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষাকালে খড়ি নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভেসে আসা কচুরিপানা ও পানার কারণে এই নদীপথে যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অথচ স্কুল, বাজার, হাসপাতাল এবং রেলস্টেশনে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন বহু মানুষ এই নৌপথের উপর নির্ভর করেন।এলাকাবাসীর দাবি, গত ১০-১৫ বছর ধরে এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে। এর আগে একটি অস্থায়ী বাঁশের সেতু তৈরি করা হলেও বন্যার জলে সেটি ভেঙে যায়। চলতি বছর এখনও নতুন করে সেই সেতু তৈরি হয়নি।
নৌকা চলাচল বন্ধ, বাড়ছে দুর্ভোগ
দুর্ঘটনার পর নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন গন্তব্যে পৌঁছতে তাঁদের কয়েক কিলোমিটার ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া, রোগী, কর্মজীবী মানুষ এবং নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন প্রায় হাজার-দুই হাজার মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন। তাই দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটবে বলে তাঁদের দাবি।
পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাটের দাদপুর-কুতিরডাঙা এলাকায় খড়ি নদী পার হওয়ার সময় কচুরিপানার ধাক্কায় ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে গেল যাত্রীবোঝাই নৌকা। নৌকায় থাকা ১০-১২ জন যাত্রীর মধ্যে কয়েকজন স্কুলপড়ুয়াও ছিল। পাড়ের কাছে থাকায় দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সম্পূর্ণ ডুবে যায় নৌকাটি। ঘটনায় ফের সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের স্থায়ী সেতুর দাবি।












