আজকের দিনে কোনও সিনেমা কয়েক সপ্তাহ প্রেক্ষাগৃহে চললেই তা সাফল্যের নজির হয়ে ওঠে। কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন কোনও ছবি টানা ১০০ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে সিনেমা হলে চলা ছিল বিরাট ঘটনা। ৫৭ বছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘আরাধনা’ সেই ইতিহাসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাম। শুধু দীর্ঘদিন চলাই নয়, ছবিটির গান এবং অভিনয়ও তাকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল।
৫৭ বছর আগে তৈরি হয়েছিল নতুন রেকর্ড
১৯৬৯ সালে মুক্তি পায় শক্তি সামন্ত পরিচালিত ‘আরাধনা’। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দীর্ঘ সময় ধরে চলার নজির তৈরি করে। শুধু মুম্বই বা পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছবিটি দর্শকদের আকর্ষণ করেছিল।দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্য এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অ-হিন্দিভাষী এলাকাতেও ছবিটি দীর্ঘ সময় ধরে প্রদর্শিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। দেশজুড়ে ছবিটির সাফল্য তাকে প্ল্যাটিনাম জুবিলি হিটের মর্যাদাও এনে দেয়।
ছবির সাফল্যের অন্যতম কারণ ছিল গান
‘আরাধনা’র গল্প ও অভিনয়ের পাশাপাশি এর গানগুলি দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নেয়। ছবিতে মোট সাতটি উল্লেখযোগ্য গান ছিল। সুরকার হিসেবে ছিলেন শচীন দেব বর্মণ এবং গীতিকার আনন্দ বক্সী। আর. ডি. বর্মণও এই ছবির সঙ্গীত পরিচালনার কাজে যুক্ত ছিলেন।কিশোর কুমার, লতা মঙ্গেশকর, মহম্মদ রফি, আশা ভোঁসলে এবং এস. ডি. বর্মণের কণ্ঠে গানগুলি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
কোন কোন গান আজও জনপ্রিয়?
‘মেরে স্বপ্ন কি রানি’ এবং ‘রূপ তেরা মস্তানা’ থেকে শুরু করে ‘কোরা কাগজ থা ইয়ে মন মেরা’, ‘চন্দা হ্যায় তু মেরা সুরজ হ্যায় তু’, ‘সফল হোগি তেরি আরাধনা’, ‘গুনগুনা রাহে হ্যায় ভাঁওরে’ এবং ‘বাগোঁ মে বাহার হ্যায়’—‘আরাধনা’র গানগুলি সে সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।ছবিটির মোট দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৬৯ মিনিট। তার মধ্যে গানগুলির সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৩১ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড।
ছবিতে ছিল বাঙালি শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান
‘আরাধনা’র সঙ্গে একাধিক বাঙালি শিল্পীর নাম জড়িয়ে রয়েছে। সঙ্গীত জগতের শচীন দেব বর্মণ ও আর. ডি. বর্মণের পাশাপাশি কিশোর কুমারও এই ছবির গানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।কিশোর কুমারের কণ্ঠে ‘মেরে স্বপ্ন কি রানি’ এবং ‘রূপ তেরা মস্তানা’ পরবর্তীকালে হিন্দি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় গান হিসেবে পরিচিতি পায়। ফলে ছবিটির সাফল্যের নেপথ্যে বাঙালি শিল্পীদের অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
‘আরাধনা’ বদলে দিয়েছিল রাজেশ খান্নার কেরিয়ার
ছবির নায়ক রাজেশ খান্নার কেরিয়ারে ‘আরাধনা’ ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই ছবির সাফল্যের পর তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে যায় এবং তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম বড় তারকা হয়ে ওঠেন।রাজেশ খান্না ও শর্মিলা ঠাকুরের জুটিও দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়। পরবর্তীকালে ‘সফর’, ‘ছোটী বহু’, ‘অমর প্রেম’, ‘দাগ’, ‘রাজা রানি’, ‘আবিষ্কার’, ‘ত্যাগ’ এবং ‘মালিক’-সহ একাধিক ছবিতে তাঁদের জুটি দর্শকদের নজর কেড়েছিল।‘আরাধনা’র পর রাজেশ খান্নার পরপর একাধিক সফল ছবির ধারাও তাঁর তারকা-খ্যাতিকে আরও দৃঢ় করে। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তাঁর টানা ১৭টি হিট ছবির কথা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
১৯৬৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আরাধনা’ হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নেয়। রাজেশ খান্না ও শর্মিলা ঠাকুর অভিনীত এই ছবি দীর্ঘদিন প্রেক্ষাগৃহে চলার পাশাপাশি গানগুলির জনপ্রিয়তার জন্যও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ছবিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন একাধিক বাঙালি শিল্পী ও সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব। ‘আরাধনা’র সাফল্যের পর রাজেশ খান্নার তারকা-খ্যাতিও দ্রুত বাড়তে থাকে।








