গোবর-জৈব সারেই ফলবে ‘সোনা’! বনগাঁয় কৃষকদের হাতে প্রাকৃতিক চাষের নতুন ফর্মুলা তুলে দিল কৃষি দফতর

বনগাঁয় কৃষি দফতরের বিশেষ কর্মশালায় প্রাকৃতিক কৃষির উপর জোর। গোবর সার, জৈব উপাদান ও প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে কম খরচে লাভজনক চাষের কৌশল জানানো হল কৃষকদের।

ক্রমবর্ধমান রাসায়নিক নির্ভর কৃষির ফলে মাটির উর্বরতা কমছে, বাড়ছে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে কৃষির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে প্রাকৃতিক চাষের উপর জোর দিচ্ছে কৃষি দফতর। সেই লক্ষ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় আয়োজন করা হয় বিশেষ কৃষি কর্মশালার, যেখানে কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই চাষাবাদের নতুন দিশা।

প্রাকৃতিক কৃষির প্রসারে কৃষি দফতরের বিশেষ উদ্যোগ

বনগাঁ ব্লক অফিসে আয়োজিত এই কর্মশালায় অংশ নেন বনগাঁ ও আশপাশ এলাকার বহু কৃষক। কৃষি আধিকারিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই কৃষকদের প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতির প্রতি আকৃষ্ট করতেই এই সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে মাটির স্বাস্থ্য ফেরানোর বার্তা

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন, রাসায়নিক উপাদানের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কৃষিজমির জৈব গুণাগুণ ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। ফলে উৎপাদন বাড়াতে প্রতি বছর আরও বেশি পরিমাণ সার ব্যবহার করতে হয়। এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে গোবর সার, ভার্মি কম্পোস্ট এবং অন্যান্য জৈব উপাদান ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গোবর সার ও প্রাকৃতিক কীটনাশকেই মিলবে সাফল্যের চাবিকাঠি

অনুষ্ঠানে কৃষকদের শেখানো হয় কীভাবে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করে কম খরচে জৈব সার এবং প্রাকৃতিক কীটনাশক তৈরি করা যায়। গোবর, গোমূত্র, নিমপাতা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি জৈব উপকরণ মাটির উর্বরতা বজায় রাখতে যেমন সাহায্য করে, তেমনই ফসলকে ক্ষতিকারক রাসায়নিকের প্রভাব থেকেও রক্ষা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই পদ্ধতি কৃষকদের উৎপাদন খরচও কমাবে।

সফল কৃষকদের অভিজ্ঞতা অনুপ্রেরণা জোগাল

কর্মশালার অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রাকৃতিক কৃষিতে সফল কয়েকজন কৃষকের সংবর্ধনা। তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, কীভাবে রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে জৈব পদ্ধতিতে চাষ করে তাঁরা লাভবান হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও উৎসাহ ও আগ্রহ তৈরি করেছে।

কৃষকদের প্রশ্নের উত্তর দিলেন বিশেষজ্ঞরা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষি বিশেষজ্ঞ ও আধিকারিকরা কৃষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। জমির উর্বরতা বৃদ্ধি, রোগ-পোকা দমন, উৎপাদন বজায় রাখা এবং বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন কর্মশালা আয়োজনের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

টেকসই কৃষির পথেই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা

বনগাঁ ব্লকের সহ-কৃষি অধিকর্তা জানান, কৃষকদের মধ্যে প্রাকৃতিক কৃষি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। পরিবেশবান্ধব কৃষি শুধু উৎপাদন বাড়ানোর পথ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ মাটি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করারও অন্যতম উপায়।

রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষিকে উৎসাহ দিতে বনগাঁ ব্লক অফিসে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করল কৃষি দফতর। সেখানে কৃষকদের প্রাকৃতিক চাষের বিভিন্ন কৌশল, গোবর ও জৈব সারের ব্যবহার এবং কম খরচে অধিক উৎপাদনের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। সফল কৃষকদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে।

Leave a comment