স্তনে হঠাৎ কোনও চাকা অনুভব করছেন? অথবা বগলের নীচে নতুন শক্ত অংশ চোখে পড়েছে? নিপলের আকার বদলে যাচ্ছে কিংবা ত্বকে অস্বাভাবিক গর্তের মতো দাগ দেখা দিয়েছে? এমন কোনও পরিবর্তন দেখলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু সেটিকে দীর্ঘদিন ফেলে রাখাও ঠিক নয়। স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই শরীরের স্বাভাবিক গঠন সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সন্দেহজনক পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
স্তনে চাকা মানেই কি ক্যানসার?
প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা দরকার—স্তনে চাকা বা অন্য কোনও পরিবর্তন দেখা দিলেই সেটি ক্যানসার, এমন নয়। বিভিন্ন নিরীহ কারণেও স্তনে গুটি বা ব্যথা হতে পারে।তবে নতুন কোনও পরিবর্তন শরীরে দেখা দিলে তার কারণ নিজে থেকে ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের কাছে দেখানো জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন।
কোন কোন পরিবর্তন নজরে রাখবেন?
স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে কয়েকটি পরিবর্তন বিশেষভাবে নজরে রাখা প্রয়োজন। যেমন—
স্তন বা বগলের নীচে নতুন চাকা বা শক্ত অংশ অনুভব হওয়া
স্তনের আকার বা আকৃতিতে হঠাৎ পরিবর্তন
স্তনের ত্বকে গর্ত বা টোলের মতো অংশ তৈরি হওয়া
ত্বকে অস্বাভাবিক লালচে ভাব বা ফোলাভাব
নিপল হঠাৎ ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া
নিপল থেকে অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া, বিশেষ করে রক্তমিশ্রিত নিঃসরণ
নিপলের আশপাশে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি, ব্যথা বা অন্য কোনও পরিবর্তন
এর মধ্যে কোনও একটি লক্ষণ দেখা গেলেই যে ক্যানসার হয়েছে, তা নয়। কিন্তু নতুন ও অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বগলের নীচের পরিবর্তনও কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শুধু স্তনের দিকে নজর দিলেই হবে না। বগলের নীচে নতুন কোনও চাকা বা শক্ত অংশ অনুভূত হলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।তাই নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন থাকার সময় স্তনের পাশাপাশি বগলের অংশেও কোনও নতুন পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।
ব্যথা না থাকলেও কি সতর্ক হতে হবে?
অনেকেই মনে করেন, কোনও সমস্যা হলে নিশ্চয়ই ব্যথা হবে। এই ধারণার উপর নির্ভর করে স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।কোনও নতুন চাকা বা দৃশ্যমান পরিবর্তন থাকলেও ব্যথা না থাকতে পারে। তাই ব্যথা হচ্ছে কি না, সেটিকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
স্তন বা বগলের নীচে নতুন কোনও চাকা, ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, নিপলের আকৃতিতে বদল বা অস্বাভাবিক নিঃসরণ লক্ষ্য করলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সোমনাথ মুখোপাধ্যায়ের মতে, নতুন বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে ভয় না পেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো ফল পাওয়ার সুযোগ থাকে।
ভয় বা লজ্জায় চিকিৎসা পিছিয়ে দেবেন না
স্তন সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে এখনও অনেকের মধ্যে সামাজিক সংকোচ বা অস্বস্তি রয়েছে। সেই কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করা উচিত নয়।আবার ইন্টারনেটে কোনও লক্ষণ পড়ে নিজে থেকেই সেটিকে ক্যানসার বলে ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। একইভাবে, কোনও পরিবর্তনকে শুধুমাত্র ব্যথা নেই বলে স্বাভাবিক ধরে নেওয়াও ভুল হতে পারে।সন্দেহ থাকলে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে—
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা
তামাক এড়িয়ে চলা
অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত করা
ব্যক্তিগত ঝুঁকি ও বয়স অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করা
তবে কোনও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপই সব ক্ষেত্রে ক্যানসার পুরোপুরি আটকানোর নিশ্চয়তা দেয় না। তাই নিজের শরীরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্তনে কোনও পরিবর্তন হলেই যে তা ব্রেস্ট ক্যানসার, এমন নয়। তবে স্তন বা বগলের নীচে নতুন চাকা, স্তনের আকারে হঠাৎ বদল, ত্বকে গর্ত বা টোল, লালচে ভাব, অস্বাভাবিক ফোলাভাব, নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক নিঃসরণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করা সম্ভব।













