নতুন ঠিকানায় গিয়ে কেমন আছে বিহারের সেই বাঘিনী? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল বন দফতরের ট্র্যাপ ক্যামেরায়। বক্সার জঙ্গলে জলাশয়ের ধারে নিশ্চিন্তে জলপান করতে দেখা গেল তাকে। শুধু জলপানই নয়, জলাশয়ে নেমে স্নানও সেরেছে বাঘিনী। নতুন পরিবেশে তার এই স্বাভাবিক আচরণে খুশি বন দফতর।

বক্সার জঙ্গলে স্বাভাবিক ছন্দে বাঘিনী
উত্তরবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে আনা বিহারের বাঘিনীকে ঘিরে শুরু থেকেই আগ্রহ ছিল বনপ্রেমীদের মধ্যে। নতুন জঙ্গলের পরিবেশে সে কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে, তা নিয়ে নজর রাখছিল বন দফতর।এর মধ্যেই ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বাঘিনীর জলপানের ছবি। রাতের অন্ধকারে জলাশয়ের কাছে একেবারে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে জল খেতে দেখা যায় তাকে। বাঘিনীর এই আচরণকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবেই দেখছে বন দফতর।
রাত ৭টা ৫২ মিনিটে ক্যামেরায় ধরা পড়ল দৃশ্য
বন দফতরের ক্যামেরায় রাত ৭টা ৫২ মিনিট নাগাদ বাঘিনীর জলপানের দৃশ্য ধরা পড়ে। জলপানের পাশাপাশি জলাশয়ে নেমে স্নান করতেও দেখা যায় তাকে।বাঘিনীর এই স্বাভাবিক চলাফেরার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই উৎসাহ তৈরি হয়েছে বন্যপ্রাণপ্রেমীদের মধ্যে। রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও-ও বাঘিনীর এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’।

বিশেষ এনক্লোজারে রাখা হয়েছে বাঘিনীকে
বর্তমানে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ‘২৫ মাইল’ এলাকায় বন দফতরের তৈরি বিশেষ অস্থায়ী এনক্লোজারে রয়েছে বাঘিনীটি।এর আগে হাসিমারা থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পথ তাকে সড়কপথে বক্সায় নিয়ে আসা হয়। পুরো যাত্রাপথে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা এবং বিশেষ গ্রিন করিডরের ব্যবস্থা। রাজাভাতখাওয়া গেট পেরিয়ে নিরাপদেই বক্সার জঙ্গলে পৌঁছয় বাঘিনী।
২.২ হেক্টর প্রাকৃতিক ঘেরাটোপে হবে পরবর্তী ধাপ
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২.২ হেক্টর এলাকাজুড়ে তৈরি প্রাকৃতিক ঘেরাটোপে বাঘিনীটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।স্থানান্তর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় পর্যটন ও জঙ্গল সাফারি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ জারি থাকার কথা জানানো হয়েছে।

বক্সায় বাঘের উপস্থিতি ঘিরে আশাবাদ
বক্সার জঙ্গলে বাঘের উপস্থিতি বাড়লে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের পাশাপাশি ডুয়ার্সের পর্যটনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা।তাঁদের বক্তব্য, বক্সার জঙ্গল আরও সমৃদ্ধ হলে ভবিষ্যতে বন্যপ্রাণ দেখতে পর্যটকদের আগ্রহও বাড়তে পারে। এর ফলে ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্পও উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

বিহার থেকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে আনা বাঘিনীটি নতুন পরিবেশে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছে। বন দফতরের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে তার নিশ্চিন্তে জলপান ও জলাশয়ে স্নানের ছবি। বাঘিনীর স্বাভাবিক আচরণে স্বস্তি পেয়েছেন বন দফতরের আধিকারিকরা।











