ক্যালসিয়ামের ওষুধ খাচ্ছেন? এই ভুল করলে হাড়ের উপকার তো হবেই না, উল্টে বাড়তে পারে হার্ট ও কিডনির ঝুঁকি

হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম জরুরি, তবে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট খেলে কিডনিতে পাথর, হৃদরোগ ও হাইপারক্যালসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

শরীরের জন্য ক্যালসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। হাড় ও দাঁত শক্ত রাখা থেকে শুরু করে পেশি এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্যও এটি অপরিহার্য। তবে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি যেমন ক্ষতিকর, তেমনই অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামও শরীরের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাওয়া মোটেই নিরাপদ নয়।

ভারতে বাড়ছে ক্যালসিয়াম ঘাটতির সমস্যা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কম বয়সিদের মধ্যে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না পাওয়ার কারণে হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। শিশু থেকে প্রবীণ—প্রতিটি বয়সেই শরীরের নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিদিন কতটা ক্যালসিয়াম দরকার?

সাধারণভাবে ৫০ বছরের কম বয়সি মহিলাদের এবং ৭০ বছরের কম বয়সি পুরুষদের প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। এই চাহিদা পূরণের জন্য অনেকে খাবারের পাশাপাশি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে সেখানেই সতর্কতা প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার ও সাপ্লিমেন্ট মিলিয়ে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম শরীরে জমতে শুরু করলে তা উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি

অনেক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণের সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে মেনোপজের পর মহিলাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ হৃদযন্ত্রের সমস্যার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কম রাখতে ক্যালসিয়ামের সঠিক মাত্রা বজায় রাখা জরুরি।

হাইপারক্যালসেমিয়া কী?

শরীরে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে গেলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে হাইপারক্যালসেমিয়া বলা হয়। এই সমস্যায় আক্রান্ত হলে পেটব্যথা, বমিভাব, অবসাদ, অতিরিক্ত তৃষ্ণা এবং শরীরে জলের ঘাটতির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

অন্যান্য পুষ্টি শোষণেও বাধা

শুধু কিডনি বা হার্ট নয়, অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম শরীরে আয়রন, জিঙ্ক এবং ম্যাগনেসিয়ামের শোষণ প্রক্রিয়াতেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে শরীরে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।সাপ্লিমেন্ট নয়, খাবার থেকেই ক্যালসিয়াম পাওয়ার পরামর্শচিকিৎসকরা বলছেন, ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণের জন্য প্রথমে খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া উচিত। দুধ, দই, টোফু, বাদাম, চিয়া বীজ এবং বিভিন্ন দুগ্ধজাত খাবার ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস।যাঁদের দুধে অ্যালার্জি রয়েছে বা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে, তাঁরাও বিকল্প খাদ্য উৎস থেকে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম পেতে পারেন।

হাড় মজবুত রাখতে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট খেতে শুরু করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালসিয়াম প্রবেশ করলে কিডনিতে পাথর, হৃদরোগ, এমনকি হাইপারক্যালসেমিয়ার মতো জটিল সমস্যাও

Leave a comment