Calcutta High Court Verdict: ৩২০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল, হাইকোর্ট জানাল ৫ বড় কারণ

Calcutta High Court Verdict: ৩২০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল, হাইকোর্ট জানাল ৫ বড় কারণ

Primary Teacher Recruitment Case: কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার জানায় যে ৩২০০০ প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল করা হবে না। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত মিত্র স্পষ্ট জানান, যাঁরা দীর্ঘদিন রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যক্তিগত অপরাধ বা ঘুষের প্রমাণ নেই। আদালত আরও বলে, এই নিয়োগ বাতিল হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুতর প্রভাব পড়বে। তাই আগের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ করে চাকরি বহাল রাখা হল।

ব্যক্তিগত অপরাধ বা ঘুষের প্রমাণ মেলেনি

ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, নিয়োগে কিছু প্রশাসনিক বেনিয়ম থাকলেও কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অপরাধ, ঘুষ নেওয়া বা আর্থিক লেনদেনের লিখিত নথি পেশ করা হয়নি। তাই শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে চাকরি খারিজ করা যায় না।আদালত এও জানায়, নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তা প্রত্যেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কোনও ব্যক্তিগত দায় না থাকায় বৃহৎ পরিসরে চাকরি বাতিলকে অবিচার বলে মনে করেছে বেঞ্চ।

দীর্ঘদিন অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন শিক্ষকরা

হাইকোর্ট উল্লেখ করে, এই ৩২০০০ শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের ভূমিকা শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ।তাই এতদিন পরে তাঁদের চাকরি কেড়ে নেওয়া অন্যায় হবে এবং তা শিক্ষার বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

চাকরি কেড়ে নেওয়া অনৈতিক ও অমানবিক হবে

সিঙ্গল বেঞ্চ শূন্য-সহনীয় নীতি (Zero Tolerance) প্রয়োগ করলেও ডিভিশন বেঞ্চ মনে করে, মানুষের জীবিকা বিবেচনা না করে এমন রায় দেওয়া যায় না।বিচারপতিরা বলেন, নিয়োগে বেনিয়ম থাকলেও নির্দোষ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি কেড়ে নেওয়া অনৈতিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়াবে।

শিক্ষকরা এখন সম্পূর্ণ প্রশিক্ষিত

ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সকল ৩২০০০ শিক্ষকই এখন D.El.Ed ও NIOS প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাঁদের মধ্যে অনেকেই প্রত্যন্ত এলাকায় একমাত্র শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন।এই চাকরি বাতিল হলে সেখানে শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়বে। বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য আদালতের।

অ্যাপটিটিউড টেস্ট না হওয়ার অভিযোগ প্রমাণ হয়নি

অ্যাপটিটিউড টেস্ট নেওয়া হয়নি—এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সিঙ্গল বেঞ্চ চাকরি বাতিল করেছিল। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ দেখে যে এর কোনও সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই।আদালত বলে, প্রমাণ ছাড়া এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। তাই এই যুক্তি খারিজ করে দেওয়া হয়।

কলকাতা হাইকোর্ট ৩২০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহালের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের মতে, ব্যক্তিগত অপরাধের প্রমাণ নেই, দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন এই শিক্ষকরা এবং চাকরি বাতিল হলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় প্রভাব পড়বে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি দেখিয়েই ডিভিশন বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত নেয়।

Leave a comment