স্বাস্থ্য পরিষেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল। অথচ সেই হাসপাতাল চত্বরেই দিনের পর দিন জমে থাকছে নোংরা আবর্জনা। দুর্গন্ধ ও দূষণে একদিকে যেমন বিপাকে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের পরিজনরা, তেমনই সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়ছে বলে অভিযোগ।

মাসের পর মাস বর্জ্য না সরানোর অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ২৮ নভেম্বরের পর আর একবারও হাসপাতাল চত্বর থেকে বর্জ্য সরানো হয়নি। প্রায় দু’মাস ধরে জমতে জমতে হাসপাতাল চত্বরে তৈরি হয়েছে আবর্জনার পাহাড়। নিয়মিত পরিষ্কারের কোনও ব্যবস্থাই নেই বলে অভিযোগ উঠছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের পাশেই আবর্জনার স্তূপ
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগের অন্তর্গত শিশুদের আউটডোরের পাশেই জমছে নোংরা আবর্জনা। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের মূল ভবনের পিছনে রোগীদের রান্নাঘরের পাশেও তৈরি হয়েছে আরেকটি বর্জ্যের স্তূপ। ফলে প্রতিদিনই দুর্গন্ধে টেঁকা দায় রোগী ও তাঁদের পরিজনদের।
দূষণ ও সংক্রমণের আশঙ্কা
দিনের পর দিন আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়ায় সেখান থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ ও দূষিত ধোঁয়া। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা শিশু, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও বয়স্ক রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীর পরিবার।

দায় কার, তা নিয়েই বিতর্ক
এই আবর্জনা সরানোর দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের, না কি স্থানীয় প্রশাসনের—তা নিয়েই তৈরি হয়েছে চাপান উতোর। এক পক্ষ অন্য পক্ষের ঘাড়ে দায় ঠেলছে বলে অভিযোগ। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই থেকে গিয়েছে।
রোগীর পরিজনদের ক্ষোভ
হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, “হাসপাতালে এসে চিকিৎসা তো দূরের কথা, দুর্গন্ধে দাঁড়ানোই যাচ্ছে না। এমন পরিবেশে অসুস্থ মানুষ কীভাবে সুস্থ হবে?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনা ঘিরে চরম উদ্বেগ। হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশের পাশেই বর্জ্যের স্তূপ জমে দূষণ ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব কার, তা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দফতরের মধ্যে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন।













