কার্তিকের মতোই চৈত্র মাসেও ছটপুজোর আয়োজন। বসন্তের আবহে সূর্য আরাধনায় মেতে উঠলেন ভক্তরা। আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের বিভিন্ন নদীর ঘাটে সকাল থেকেই জমল পুণ্যার্থীদের ভিড়। অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য দিয়ে শুরু হল চৈতী ছটপুজোর মূল পর্ব।
নদীর ঘাটে ভক্তদের সমাগম
কালচিনি, জয়গাঁ ও দলসিংপাড়ার নদীর ঘাটে সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। কলাগাছ ও ফুল দিয়ে সাজানো হয় ঘাট। জাঁকজমক কম থাকলেও ভক্তদের নিষ্ঠা ও আবেগে ভরে ওঠে পুজোর পরিবেশ।
চৈতী ছটের ঐতিহ্য ও মাহাত্ম্য
ছটপুজো বছরে দু’বার পালিত হয়—কার্তিক ও চৈত্র মাসে। চৈত্রের এই পুজো ‘চৈতী ছট’ নামে পরিচিত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথিতে দেবী যমুনা পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, তাই একে ‘যমুনা ছট’ও বলা হয়।
চারদিনের কঠোর ব্রত ও নিয়ম
এই পুজো চলে টানা চারদিন।
প্রথম দিন ‘নাহায়-খায়’, দ্বিতীয় দিন ‘খরনা’, তৃতীয় দিনে অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য এবং চতুর্থ দিনে উদীয়মান সূর্যকে প্রণাম জানানোর মাধ্যমে শেষ হয় ব্রত। কঠোর নিয়ম মেনে এই আচার পালন করেন ব্রতীরা।
ঘাট সাজানো থেকে সূর্য আরাধনা
সকালেই ভক্তরা নদীর ঘাটে পৌঁছে কলাগাছ পুঁতে অস্থায়ী ঘাট তৈরি করেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে জলে নেমে সূর্যকে অর্ঘ্য দেন। এরপর আরতি ও প্রার্থনার মাধ্যমে পুজোর পর্ব সম্পন্ন হয়।
সিঁদুর খেলা ও ভক্তদের আবেগ
পুজোর শেষে মহিলারা একে অপরের কপালে সিঁদুর পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কার্তিকের ছটের মতো এখানে বড় আয়োজন বা মেলার ব্যবস্থা না থাকলেও ভক্তির আবহে কোনও খামতি ছিল না। পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে নিয়েই শান্তভাবে পালিত হল এই পুজো।
চৈত্র মাসের ষষ্ঠী তিথিতে পালিত হল চৈতী ছটপুজো। কালচিনি, জয়গাঁ ও দলসিংপাড়ার নদীর ঘাটে ভক্তদের ভিড়, অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য দিয়ে পালন করা হল প্রাচীন রীতিনীতি।













