আলো নিভলেই রান্নাঘরের সিঙ্কের আশপাশে আরশোলার আনাগোনা? কখনও বেসিনে পিঁপড়ের সারি, আবার কখনও জানালার ধারে মাছির ভিড়? বর্ষাকালে এমন সমস্যা অনেক বাড়িতেই দেখা যায়। আর্দ্রতা ও জমে থাকা জল পোকামাকড়ের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে দামি স্প্রে কেনার আগে ঘরোয়া কিছু উপাদান দিয়ে সহজ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন।
বর্ষায় কেন হঠাৎ বেড়ে যায় পোকামাকড়?
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকলে কিংবা ড্রেন ও সিঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে পোকামাকড়ের আনাগোনা বাড়তে পারে।আরশোলা সাধারণত অন্ধকার, উষ্ণ ও স্যাঁতসেঁতে জায়গা পছন্দ করে। তাই রান্নাঘরের সিঙ্কের নীচে, ড্রেনের আশপাশে কিংবা আলমারির ফাঁকে তাদের দেখা মেলার সম্ভাবনা বেশি।
ভিনিগার ও ডিশওয়াশ দিয়ে তৈরি করতে পারেন ঘরোয়া স্প্রে
ঘরোয়া পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত সাদা ভিনিগার এবং তরল ডিশওয়াশ দিয়ে একটি সহজ স্প্রে তৈরি করা যায়। এর জন্য লাগতে পারে—
১ কাপ জল
আধ কাপ সাদা ভিনিগার
১ চা চামচ তরল ডিশওয়াশ
সব উপকরণ একটি স্প্রে বোতলে নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে পারেন। এরপর সিঙ্কের বাইরের অংশ, জানালার কার্নিশ বা পোকামাকড়ের আনাগোনা রয়েছে এমন জায়গায় অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা যায়।তবে ভিনিগার ও ডিশওয়াশ মিশ্রণ আরশোলা বা মশা নিশ্চিতভাবে মেরে ফেলবে—এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই। এটিকে মূলত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা উচিত।
বেকিং সোডা মেশাবেন? একটু সাবধান
অনেক ঘরোয়া টোটকায় ভিনিগার ও বেকিং সোডা একসঙ্গে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু দুটো মেশালে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ফেনা ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয় এবং একে অপরের কিছু বৈশিষ্ট্যও কমে যায়।তাই স্প্রে বানানোর ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক উপাদান মেশানোর বদলে সহজ ফর্মুলা ব্যবহার করাই ভালো। বিশেষ করে বন্ধ বোতলে ভিনিগার ও বেকিং সোডা মিশিয়ে রেখে দেওয়া উচিত নয়।
নিমের তেলও ব্যবহার করেন অনেকে
আরেকটি প্রচলিত ঘরোয়া উপায় হল নিমের তেল। পানিতে অল্প নিমের তেল মিশিয়ে পোকামাকড়ের আনাগোনা রয়েছে এমন জায়গার আশপাশে ব্যবহার করা হয়।তবে তেল ও জল সহজে মিশে যায় না। তাই ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে। খাবার, বাসনপত্র বা রান্নার সরঞ্জামের গায়ে সরাসরি এই ধরনের মিশ্রণ স্প্রে না করাই নিরাপদ।
কর্পূর ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা জরুরি
পোকামাকড় দূরে রাখতে কর্পূরের গন্ধ ব্যবহারের কথাও প্রচলিত। তবে কর্পূরকে পোকা তাড়ানোর নিশ্চিত বা নিরাপদ সমাধান হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে শিশু ও পোষ্য প্রাণী থাকলে কর্পূর তাদের নাগালের বাইরে রাখা জরুরি।কোনও ঘরোয়া মিশ্রণই খাবারের কাছে, রান্নার জায়গায় বা ত্বকে ব্যবহার করা উচিত নয়। ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু স্প্রে করলেই হবে না
বাড়িতে আরশোলা বা মশার উপদ্রব কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তাদের বংশবিস্তার ও খাবারের উৎস কমানো। তাই—
সিঙ্ক ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।
রান্নাঘরে খাবারের টুকরো বা জল জমতে দেবেন না।
রাতে খাবার খোলা অবস্থায় রাখবেন না।
আবর্জনা দ্রুত সরিয়ে ফেলুন।
বাড়ির কোথাও জল জমে থাকলে তা ফেলে দিন।
জানালা ও দরজার ফাঁক সম্ভব হলে বন্ধ রাখুন।
দীর্ঘদিন ধরে বেশি আরশোলা থাকলে পেশাদার পেস্ট কন্ট্রোলের সাহায্য নিন।
বর্ষা এলেই বাড়িতে বেড়ে যায় স্যাঁতসেঁতে ভাব, আর তার সঙ্গে বাড়ে আরশোলা, পিঁপড়ে, মাছি ও মশার উপদ্রব। বিশেষ করে রান্নাঘরের সিঙ্ক, ড্রেন এবং অন্ধকার কোণে আরশোলার আনাগোনা বেশি দেখা যায়। বাজারি কীটনাশকের পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া উপাদান দিয়েও পোকামাকড়ের উপস্থিতি কমানোর চেষ্টা করা যায়। তবে এগুলিকে পোকা নির্মূলের নিশ্চিত উপায় হিসেবে না দেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে ব্যবহার করাই ভালো।













