রাজভবনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বাংলাকে বিদায় জানানোর আগে আবেগঘন বার্তা দিলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। “মাই ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স অফ বেঙ্গল…”—এই শব্দবন্ধ দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর খোলা চিঠিতে উঠে এসেছে বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা, স্মৃতি এবং ভবিষ্যতেও এই রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার আশ্বাস।
বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
খোলা চিঠিতে সিভি আনন্দ বোস লিখেছেন, গত তিন বছরে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন তিনি পেয়েছেন, তা তাঁর জীবনের অন্যতম মূল্যবান অভিজ্ঞতা। রাজ্যপালের দায়িত্ব পালন করার সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তাঁর কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
‘বাংলা আমার দ্বিতীয় বাড়ি’
চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করে জানান, রাজ্যপালের দায়িত্ব শেষ হলেও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। বরং তিনি মনে করেন, বাংলা তাঁর “দ্বিতীয় বাড়ি”। ভবিষ্যতেও এই রাজ্যের সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখবেন বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতি
বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর চিঠিতে মহাত্মা গান্ধি এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি উল্লেখ করেন সিভি আনন্দ বোস। পাশাপাশি গত তিন বছরে রাজ্যের নানা প্রান্তে মানুষের সঙ্গে দেখা ও আলাপচারিতার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি স্মরণ করেন।
বাংলার জন্য প্রার্থনার বার্তা
চিঠির একাংশে বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রার্থনা করেন, “মা দুর্গা যেন বাংলার মানুষকে রক্ষা করেন।” এই বাক্যের মাধ্যমে বাংলার মানুষের কল্যাণ কামনাও করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা
প্রসঙ্গত, প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে মঙ্গলবার সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলায় ধর্না কর্মসূচি প্রত্যাহারের পরই তিনি সরাসরি গিয়ে দেখা করেন তাঁর সঙ্গে। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যপালকে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগে বাংলার মানুষের উদ্দেশে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি লিখলেন সিভি আনন্দ বোস। সেখানে গত তিন বছরে বাংলার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে মহাত্মা গান্ধি ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি টেনে বাংলার সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন।





