গ্যাস সংকটে থমকে নয়! কাঠের আঁচে ফিরছে পুরনো স্বাদ—বন্ধ হচ্ছে না দাদা বৌদির বিরিয়ানি

ব্যারাকপুরের দাদা বৌদি বিরিয়ানিতে গ্যাস সংকটের জেরে বড় সিদ্ধান্ত। গ্যাসের বদলে কাঠের চুল্লিতে রান্না হবে বিরিয়ানি। ফলে পুরনো স্বাদ ফেরার আশা খাদ্যরসিকদের।

রান্নার গ্যাসের সংকটে বড় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্যের বহু রেস্তরাঁ। সেই তালিকায় উঠে এসেছিল ব্যারাকপুরের বিখ্যাত দাদা বৌদি বিরিয়ানির নামও। তবে আতঙ্কের মাঝেই আশার খবর—দোকান বন্ধ হচ্ছে না। বরং পুরনো পদ্ধতিতে কাঠের চুল্লিতে বিরিয়ানি রান্না করে পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গ্যাস সংকটে চাপে জনপ্রিয় বিরিয়ানির দোকান

রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের তিনটি আউটলেট মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ মাসে প্রায় ৯০০ সিলিন্ডার লাগে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় ডিলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রান্নাঘরে বড়সড় সংকট তৈরি হয়েছে।

কাঠের চুল্লিতেই নতুন সমাধান

এই পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাঠের চুল্লিতে বিরিয়ানি রান্নার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিকপক্ষ। ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে রান্নার খরচ কিছুটা বাড়লেও পরিষেবা বন্ধ না করে ক্রেতাদের জন্য বিরিয়ানি চালু রাখাই প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

ব্যারাকপুরে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা

ব্যারাকপুর স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বাইরে অবস্থিত এই রেস্তরাঁ বহু বছর ধরেই খাদ্যরসিকদের অন্যতম ভরসার জায়গা। বিরিয়ানির জন্য বিখ্যাত হলেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখানে এখন নানা ভারতীয় ও চাইনিজ পদও পাওয়া যায়। বর্তমানে ব্যারাকপুরে দুটি এবং সোদপুরে একটি মিলিয়ে মোট তিনটি আউটলেট রয়েছে।

৬০০ কর্মীর জীবিকা জড়িয়ে এই ব্যবসা

এই তিনটি শাখায় প্রায় ৬০০ জন কর্মী কাজ করেন। ফলে দীর্ঘদিন গ্যাস সংকট চললে শুধু ব্যবসাই নয়, বহু মানুষের জীবিকাও সমস্যায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কর্তৃপক্ষ।

গ্যাস সরবরাহের ঘাটতিতে সমস্যায় পড়েছিল ব্যারাকপুরের জনপ্রিয় Dada Boudi Biryani। তবে দোকান বন্ধ না করে মালিকপক্ষ বেছে নিয়েছে বিকল্প পথ। এবার থেকে গ্যাসের বদলে কাঠের আগুনে রান্না হবে বিরিয়ানি। ফলে পুরনো দিনের স্বাদই আবার ফিরতে পারে বলে আশা করছেন খাদ্যরসিকরা।

Leave a comment