পূর্ব হিমালয়ের পাহাড়ি সংস্কৃতির সুর এবার প্রতিধ্বনিত হল ইউরোপের আন্তর্জাতিক মঞ্চে। দার্জিলিংয়ের দুই প্রতিভাবান শিল্পী অঙ্কিতা ছেত্রী ও বিপাসনা ইয়োনজন সুইডেনে অনুষ্ঠিত Ethno Sweden 2026 উৎসবে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে শুধু দেশের মুখই উজ্জ্বল করেননি, বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন পাহাড়ি লোকসঙ্গীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যও।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে দার্জিলিংয়ের লোকসঙ্গীতের জয়যাত্রা
সুইডেনের ডালার্না কাউন্টির র্যাটভিকে অনুষ্ঠিত দশদিনের আন্তর্জাতিক সংগীত শিবিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লোকশিল্পীরা অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানে প্রত্যেক শিল্পী নিজের দেশের ঐতিহ্যবাহী সংগীত অন্যদের শেখানোর পাশাপাশি যৌথ পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন। সেই মঞ্চেই অঙ্কিতা ও বিপাসনা দার্জিলিং পাহাড়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে দর্শকদের মন জয় করেন।
নেপালি সুর থেকে মৌলিক কম্পোজিশন—দর্শকদের মুগ্ধ করল পরিবেশনা
তাঁদের পরিবেশনার প্রথম পর্বে ছিল কিংবদন্তি নেপালি শিল্পী অরুণা লামার জনপ্রিয় গান ‘পোহর সাল’, যা সংগ্রাম, সময় এবং আশার বার্তা বহন করে। দ্বিতীয় পর্বে তাঁরা নিজেদের তৈরি একটি মৌলিক সঙ্গীত পরিবেশন করেন, যেখানে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত, পাশ্চাত্য সুর এবং পাহাড়ি লোকসঙ্গীতের অসাধারণ সংমিশ্রণ আন্তর্জাতিক দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
স্কুলজীবনের স্বপ্ন থেকে বিশ্বমঞ্চের সাফল্য
দুই শিল্পীর সংগীতজীবনের শুরু দার্জিলিংয়ের লোরেটো কনভেন্ট স্কুলে পড়াকালীন। বিপাসনা ইয়োনজন দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সেতারে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিয়েছেন এবং বর্তমানে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পিএইচডি করছেন। অন্যদিকে অঙ্কিতা ছেত্রী একজন কণ্ঠশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি একাধিক বাদ্যযন্ত্রে দক্ষ এবং বর্তমানে গুরুগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে কর্মরত। ব্যস্ত পেশাগত জীবনের মধ্যেও সংগীতচর্চা তাঁদের বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছে।
বিশেষ কনসার্টেও মিলল সম্মানজনক আমন্ত্রণ
মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সুইডিশ সুরকার হুগো আলফভেনের ঐতিহাসিক বাসভবন আলফভেনগার্ডেন-এ আয়োজিত বিশেষ কনসার্টেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পান এই দুই শিল্পী। তাঁদের কথায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে এক মঞ্চে কাজ করার অভিজ্ঞতা শুধু সংগীত নয়, সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।
পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করাই আগামী লক্ষ্য
দেশে ফিরে অঙ্কিতা ও বিপাসনার লক্ষ্য একটাই—দার্জিলিংয়ের সমৃদ্ধ লোকসংগীতকে আরও বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি পাহাড়ের তরুণ-তরুণীদের, বিশেষ করে মেয়েদের, সংগীতচর্চায় উৎসাহিত করাও তাঁদের অন্যতম স্বপ্ন। তাঁদের বিশ্বাস, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা থাকলে স্থানীয় সংস্কৃতিও বিশ্বমঞ্চে সমান মর্যাদা পেতে পারে।
দার্জিলিংয়ের দুই তরুণী শিল্পী অঙ্কিতা ছেত্রী ও বিপাসনা ইয়োনজন সুইডেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসব Ethno Sweden 2026-এ ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। পাহাড়ি লোকসঙ্গীত, নেপালি সুর এবং শাস্ত্রীয় সংগীতের অনন্য মেলবন্ধনে তাঁরা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।












