গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল। তার সঙ্গে গুরু পূর্ণিমার কোটাল মিলিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা সমুদ্রতটে তৈরি হয়েছে জলোচ্ছ্বাসের পরিস্থিতি। বুধবার ওল্ড দিঘা থেকে নিউ দিঘা পর্যন্ত একের পর এক বিশাল ঢেউ গার্ডওয়াল ছাপিয়ে সৈকত সরণীতে আছড়ে পড়ে। সমুদ্রের এই রুদ্র অথচ মনোমুগ্ধকর রূপ দেখতে বহু পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন।

ঘণ্টায় ৫০-৫৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের কারণে দিঘা-সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। ফলে সমুদ্র আরও উত্তাল হয়ে উঠেছে।
সমুদ্রস্নানে নিষেধাজ্ঞা, কড়া নিরাপত্তা
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ওল্ড দিঘা থেকে নিউ দিঘা পর্যন্ত সমস্ত স্নানঘাট বন্ধ রাখা হয়েছে। সৈকত বরাবর দড়ির ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক নুলিয়া, সিভিল ডিফেন্স কর্মী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে পর্যটকদের সতর্কও করা হচ্ছে।

ঢেউয়ে ভিজেই আনন্দে মেতে পর্যটকেরা
সমুদ্রে নামার অনুমতি না থাকলেও অনেক পর্যটক সৈকত সরণীতে দাঁড়িয়ে বিশাল ঢেউয়ের ঝাপটায় ভিজে আনন্দ উপভোগ করছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে বেড়াতে আসা এক পর্যটকের কথায়, বর্ষার দিঘার জলোচ্ছ্বাসের ভিডিও এতদিন দেখেছেন, এবার সামনাসামনি সেই দৃশ্য দেখে অভিজ্ঞতা আরও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।

দিন-রাত জলোচ্ছাসের আশঙ্কা
প্রশাসনের দাবি, নিম্নচাপের প্রভাব এবং পূর্ণিমার কোটালের কারণে দিনের পাশাপাশি রাতেও জলোচ্ছাস অব্যাহত থাকতে পারে। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সমুদ্রের ধারে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।

গভীর নিম্নচাপ ও গুরু পূর্ণিমার কোটালের জেরে দিঘার সমুদ্র এখন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। বিশাল ঢেউ গার্ডওয়াল টপকে সৈকতে আছড়ে পড়ছে। প্রশাসন সমুদ্রস্নান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। তবুও এই দুর্লভ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে বহু পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন দিঘায়।












