ধনবাদে রেলকর্মীদের বেতনের সঞ্চয়ে তৈরি হলো ভগবান বিশ্বকর্মের স্থায়ী মন্দির। পূর্ব মধ্য রেলের ধনবাদ কোচিং ডিপোর ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন বিভাগের কর্মীরা নিজেদের বেতন থেকে টাকা সঞ্চয় করে মন্দিরটি নির্মাণ করেছেন এবং জয়পুর থেকে সাদা মার্বেলের ভগবান বিশ্বকর্মের মূর্তি এনে সেখানে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল ২০২৪ সালে। এরপর ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন বিভাগের কর্মীরা প্রতি মাসে নিজেদের বেতন থেকে অল্প অল্প করে টাকা সঞ্চয় করতে শুরু করেন। প্রায় দুই বছর ধরে এই সঞ্চয়ের পর মন্দির নির্মাণ সম্পন্ন হয়।
কর্মীদের পক্ষ থেকে বাইরে থেকে আলাদা করে বড় পরিসরে অনুদান সংগ্রহের পরিবর্তে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন থেকে টাকা জমা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সম্মিলিত সঞ্চয়ের মাধ্যমেই ধনবাদ কোচিং ডিপো চত্বরে স্থায়ী মন্দির নির্মাণ করা হয়।
মন্দির নির্মাণের পর ভগবান বিশ্বকর্মের মূর্তি প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। রেলকর্মীদের একটি দল জয়পুর যায় এবং সেখান থেকে সাদা মার্বেলের ভগবান বিশ্বকর্মের মূর্তি ধনবাদে নিয়ে আসে। এরপর মন্দিরে বিধি মেনে মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
ভগবান বিশ্বকর্মের মূর্তির প্রাণপ্রতিষ্ঠা চলতি বছরের ১৬ জুলাই রথযাত্রার দিনে করা হয়। এ উপলক্ষে কলসযাত্রাও বের করা হয় এবং সম্পূর্ণ বিধি মেনে প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এর আগে ধনবাদ কোচিং ডিপোর ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন বিভাগে বিশ্বকর্মা পুজোর জন্য প্রতি বছর অস্থায়ী প্যান্ডেল তৈরি করতে হতো। পুজো শেষ হওয়ার পর সেই ব্যবস্থা সরিয়ে ফেলা হতো এবং পরের বছর আবার নতুন করে আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে হতো।
মন্দির নির্মাণের পর এবার ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো এই নবনির্মিত মন্দিরেই অনুষ্ঠিত হবে। কর্মীদের জন্য এটি প্রথম এমন সুযোগ, যখন তাঁরা স্থায়ী মন্দিরে একসঙ্গে ভগবান বিশ্বকর্মের পুজো করবেন।
রেলকর্মীদের কাছে ভগবান বিশ্বকর্মের পুজো শুধু বার্ষিক ধর্মীয় আয়োজন নয়, তাঁদের কাজ ও কর্মস্থলের সঙ্গেও যুক্ত। রেলে যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম, কোচ এবং প্রযুক্তিগত সম্পদের সঙ্গে কাজ করা কর্মীদের মধ্যে বিশ্বকর্মা পুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
কোচিং ডিপোতে ট্রেনের কোচ এবং সেগুলির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজের দায়িত্ব পালন করা হয়। বিশ্বকর্মা পুজোর সময় কর্মীরা তাঁদের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, যন্ত্র এবং মেশিনেরও পুজো করেন।
ভগবান বিশ্বকর্মকে কারুশিল্প, নির্মাণ এবং প্রযুক্তিগত কাজের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। সেই কারণে ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন বিভাগের কর্মীরা তাঁদের কর্মস্থলেই ভগবান বিশ্বকর্মের স্থায়ী মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।
এই মন্দিরের নির্মাণ প্রক্রিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কর্মীদের নিজস্ব আর্থিক অংশগ্রহণ। কোনও একটি বড় অঙ্কের অর্থ একসঙ্গে সংগ্রহ না করে কর্মীরা নিজেদের মাসিক আয় থেকে সামান্য সামান্য করে টাকা আলাদা রেখেছেন। এর ফলে প্রত্যেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এই কাজে অংশ নিতে পেরেছেন।
প্রায় দুই বছর ধরে জমা করা সেই অর্থের মাধ্যমে মন্দির নির্মাণ করা হয়। এরপর কর্মীদের একটি দল জয়পুর থেকে সাদা মার্বেলের মূর্তি নিয়ে আসে এবং মন্দিরে তার প্রতিষ্ঠা ও প্রাণপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
নবনির্মিত মন্দিরের ফলে ধনবাদ কোচিং ডিপো চত্বরে বিশ্বকর্মা পুজোর জন্য প্রতি বছর নতুন করে প্যান্ডেল তৈরির প্রয়োজন হবে না। পুজোর স্থান স্থায়ীভাবে তৈরি থাকায় আয়োজনের প্রস্তুতিতেও সুবিধা হবে এবং মন্দিরে নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।
জয়পুর থেকে আনা সাদা মার্বেলের মূর্তি এবং ১৬ জুলাইয়ের প্রাণপ্রতিষ্ঠার পর মন্দিরটি পুজোর জন্য প্রস্তুত হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে ধনবাদ কোচিং ডিপোর রেলকর্মীরা এই মন্দিরে একসঙ্গে ভগবান বিশ্বকর্মের আরাধনা করবেন।










