রাঁচির এইচইসি বাইপাস রোডে বুধবার দখলমুক্ত অভিযান চালাতে গিয়ে জেলা প্রশাসনের দল স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করেন এবং অভিযানের বিরোধিতা করেন। প্রশাসনিক দল ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিরোধের সময় ভিড়ে থাকা এক ব্যক্তি আরগোড়া সার্কেল অফিসার (সিও)-কে ঘুষি মারেন। এরপর পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা কড়াকড়ি করে এবং হালকা বলপ্রয়োগ করে ভিড় সরিয়ে দেয়।
এইচইসি বাইপাস রোডে দখলমুক্ত অভিযান বুধবার দ্বিতীয় দিনেও চলছিল। জেলা প্রশাসনের দল সকাল প্রায় ১০টার দিকে অভিযানের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। আগে থেকেই নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে আরগোড়া সিও, বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট, জগন্নাথপুর থানা ও নগড়ি থানার পুলিশ উপস্থিত ছিল। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছিল, যাতে অভিযানের সময় কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
প্রশাসনের দল দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং হঠাৎ বাড়িঘর সরিয়ে দেওয়া হলে তাঁদের সামনে বসবাসের সংকট তৈরি হবে। বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের কাছে দাবি করেন, কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তাঁদের পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করা হোক। তাঁদের আরও বক্তব্য, বস্তিতে ছোট শিশু ও প্রবীণরা থাকেন এবং বাড়িঘর সরিয়ে দেওয়া হলে তাঁদের বসবাসের গুরুতর সমস্যা তৈরি হবে।
প্রতিবাদের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে দখলমুক্ত অভিযান ছাড়াও ঘটনাস্থলের যান চলাচল প্রভাবিত হয়। প্রশাসনিক আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু আলোচনার সময় পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি।
এর মধ্যেই প্রশাসনিক দল ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন ভিড়ে থাকা এক ব্যক্তি আরগোড়া সিও-কে ঘুষি মারেন। ঘটনার পর ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ করেন।
সিও-র সঙ্গে মারধরের ঘটনার পর প্রশাসন কড়াকড়ি করে এবং হালকা বলপ্রয়োগ করা হয়। পুলিশের পদক্ষেপের পর ভিড় ঘটনাস্থল থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর প্রশাসন দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনার সময় পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী উপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতি ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। উপলব্ধ প্রতিবেদনে সিও গুরুতর আহত হয়েছেন কি না, তা জানানো হয়নি। তবে ভিড়ে থাকা এক ব্যক্তির তাঁকে ঘুষি মারার ঘটনা অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।
এইচইসি বাইপাস রোডে দখলমুক্ত অভিযান প্রথম দিন থেকেই সংবেদনশীল ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের বাড়িঘর সরানোর বিরোধিতা করছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা বছরের পর বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন। ফলে হঠাৎ দখলমুক্ত অভিযান শুরু হওয়ায় তাঁদের সামনে বসবাস এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দাবি করেন, তাঁদের বাড়িঘর সরানোর আগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। তাঁদের প্রশ্ন, বাড়িঘর সরিয়ে দেওয়া হলে ছোট শিশু ও প্রবীণদের নিয়ে তাঁরা কোথায় যাবেন। তাঁদের বক্তব্য, শুধু বাড়িঘর সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির বসবাসের ব্যবস্থাও প্রশাসনকে করতে হবে। এই দাবির মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেন।
অভিযানের সময় বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি স্থানীয় থানার পুলিশ ও অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন ছিল। অভিযানের সময় প্রতিবাদের আশঙ্কা প্রশাসনের ছিল। এরপরও ভিড় সড়ক অবরোধ করলে এবং আধিকারিকদের সঙ্গে বিরোধ বাড়লে কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিও-কে ঘুষি মারার পর পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণে হালকা বলপ্রয়োগ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার অভিযানটির দ্বিতীয় দিন ছিল এবং সকাল প্রায় ১০টার দিকে প্রশাসনিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। আধিকারিক ও পুলিশ বাহিনী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবাদ চলতে থাকে। প্রশাসন অভিযান এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, অন্যদিকে বস্তির বাসিন্দারা তাঁদের বাড়িঘর রক্ষা এবং বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছিলেন। সড়ক অবরোধের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল প্রশাসনিক আধিকারিকের সঙ্গে মারধর। ভিড়ে থাকা এক ব্যক্তি আরগোড়া সিও-কে ঘুষি মারার পর প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেয়। তবে উপলব্ধ প্রতিবেদনে ওই ব্যক্তির পরিচয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই এই বিষয়ে অতিরিক্ত কোনও দাবি করা হয়নি। পুলিশের তদন্তের পর ওই ব্যক্তির পরিচয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট হতে পারে।
ঘটনার পর পুলিশ ভিড়কে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রশাসনিক দলের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতি বজায় ছিল। দখলমুক্ত অভিযান কতদূর এগিয়েছে এবং কতগুলি নির্মাণ সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে উপলব্ধ প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে প্রতিবাদের মধ্যেও প্রশাসন অভিযান চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।
এইচইসি বাইপাস রোডে দখলমুক্ত অভিযান নিয়ে স্থানীয় স্তরে আলোচনা চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবি, অভিযানের আগে তাঁদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হোক। প্রশাসনের দখলমুক্ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং পুনর্বাসনের দাবি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের বিরোধই প্রতিবাদ ও সড়ক অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি করে।
পুরো ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলির কথা উল্লেখ করে বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের অভিযান এগিয়ে চলার মধ্যে তাঁদের দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই পরবর্তী বিষয়।
এই মুহূর্তে রাঁচির এইচইসি বাইপাস রোডে দখলমুক্ত অভিযান ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি পুলিশ নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে প্রশাসনিক অভিযান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। অভিযানের সময় ভিড়ে থাকা এক ব্যক্তি আরগোড়া সিও-কে ঘুষি মারার পর পুলিশকে হালকা বলপ্রয়োগ করতে হয়। প্রশাসনিক দলে আরগোড়া সিও, বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।









