বর্ষা মানেই সংক্রমণের মরশুম। ভাইরাল জ্বর, সর্দি-কাশির পাশাপাশি এই সময় সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার সমস্যা। শরীর থেকে দ্রুত জল, সোডিয়াম ও পটাশিয়াম বেরিয়ে যাওয়ায় দুর্বলতা বেড়ে যায়। তাই শুধু ওষুধ খেলেই দায়িত্ব শেষ নয়, সুস্থ হতে হলে খাদ্যতালিকাতেও আনতে হবে বড় পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাবারই ডায়রিয়ার সময় দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার অন্যতম চাবিকাঠি।

ডায়রিয়ায় প্রচলিত ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন
অনেক পরিবারেই এখনও বিশ্বাস করা হয়, ডায়রিয়া হলে শুধুমাত্র সবজির ঝোল বা খুব হালকা খাবারই খাওয়ানো উচিত। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সুষম ও সহজপাচ্য খাবার নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একঘেয়ে খাদ্যাভ্যাস অনেক সময় শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করতে পারে।
অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবার সবসময় উপকারী নয়
ডায়রিয়ার সময় অতিরিক্ত ফাইবারযুক্ত খাবার অনেকের ক্ষেত্রেই অন্ত্রের গতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে পাতলা পায়খানার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কাঁচা শাকসবজি, অতিরিক্ত সালাদ বা বেশি আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার আগে রোগীর সহনশীলতা বিবেচনা করা জরুরি। সহজপাচ্য খাবারই এই সময় বেশি উপকারী।
প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করাও জরুরি
ডায়রিয়ার সময় শরীর থেকে শুধু জল নয়, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান ও প্রোটিনও কমতে থাকে। তাই দ্রুত শক্তি ফিরে পেতে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা দরকার। যাদের অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা নেই, তারা সেদ্ধ ডিম, কম তেল-মশলায় রান্না করা মাছ কিংবা সীমিত পরিমাণে সহজপাচ্য মাংস খেতে পারেন। এগুলি শরীরের ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে।

যাদের কোলেস্টেরল বা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা রয়েছে
সব রোগীর জন্য একই ধরনের খাদ্য উপযুক্ত নয়। যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার, লিভারের সমস্যা বা SGPT বেড়ে যাওয়ার মতো শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রাণিজ প্রোটিনের পরিমাণ চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত। নিজের ইচ্ছামতো খাদ্যতালিকা পরিবর্তন করা ঠিক নয়।
নিরামিষভোজীদের জন্য কী কী খাবার উপকারী?
যাঁরা নিরামিষভোজী বা প্রাণিজ প্রোটিন খান না, তাঁদের জন্য টোফু, সয়া চাঙ্কস, পাতলা মুগডাল এবং ভালোভাবে সেদ্ধ মুসুর ডাল উপকারী হতে পারে। ছোলা বা রাজমার মতো ডালজাতীয় খাবার খেতে চাইলে অন্তত ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে সেদ্ধ করে খাওয়া উচিত, যাতে সহজে হজম হয়।

ডায়রিয়ায় শরীরে জলের ঘাটতি হতে দেবেন না
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়রিয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হল ডিহাইড্রেশন। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল, ওআরএস, ডাবের জল কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তরল খাবার খাওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার, রাস্তার খাবার এবং কোমল পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।

বর্ষাকালে দূষিত জল ও খাবারের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়। অনেকেই এই সময় ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুষ্টিবিদদের মতে, ওষুধের পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। জেনে নিন ডায়রিয়ার সময় কোন খাবার উপকারী এবং কোন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।








