ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মহান খেলোয়াড় দিয়েগো মারাদোনার মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত মামলার পুনঃশুনানি আর্জেন্টিনার আদালতে মঙ্গলবার থেকে আবার শুরু হয়েছে। এই মামলায় মোট সাতজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে বিচার চলছে এবং শুনানি জুলাই পর্যন্ত চলতে পারে।
পুনঃশুনানি শুরু আর্জেন্টিনার আদালতে বহুল আলোচিত এই মামলাটি নতুন বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, কারণ পূর্বে শুরু হওয়া ট্রায়াল একটি বিতর্কের কারণে বাতিল করা হয়েছিল।
প্রথম ট্রায়াল বাতিলের কারণ এই মামলার প্রথম ট্রায়াল মে ২০২৫-এ শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরে তা বাতিল করা হয়। আদালত-সংক্রান্ত একটি বড় বিতর্কের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একজন বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি আদালতের অনুমতি ছাড়া একটি ডকুমেন্টারি শুটিংয়ের অনুমতি দিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত ট্রায়াল বাতিল করা হয়।
মেডিক্যাল টিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ মারাদোনার চিকিৎসা দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা চিকিৎসার সময় গুরুতর অবহেলা করেছে এবং সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা দেয়নি, যার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে।
এই মামলায় মোট সাতজন মেডিক্যাল পেশাদার অভিযুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে “কুলপেবল হোমিসাইড” বা অবহেলার কারণে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের ৮ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, চিকিৎসা দল মারাদোনার শারীরিক অবস্থার গুরুতরতা সম্পর্কে অবগত ছিল, তবুও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সময়মতো নেয়নি।
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিবরণ তদন্ত রিপোর্ট এবং মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, মারাদোনার চিকিৎসায় একাধিক ত্রুটি ছিল: রোগীর অবস্থার সঠিক পর্যবেক্ষণ করা হয়নি জরুরি চিকিৎসা সুবিধা সময়মতো দেওয়া হয়নি অস্ত্রোপচারের পর বাড়িতে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব ছিল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি

মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞরা পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে “অবহেলাপূর্ণ এবং অপর্যাপ্ত” বলে উল্লেখ করেছেন।
মৃত্যুর পরিস্থিতি ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দিয়েগো মারাদোনা ২৫ নভেম্বর ২০২০ সালে ৬০ বছর বয়সে মারা যান। তিনি মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার অস্ত্রোপচারের পর বাড়িতে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন।
পোস্টমর্টেম রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তার মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল হার্ট অ্যাটাক এবং ফুসফুসে পানি জমা (পালমোনারি এডিমা)। এছাড়াও জানা যায়, তার শারীরিক অবস্থা আগে থেকেই গুরুতর ছিল এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন ছিল।
সাক্ষীর তালিকা এই উচ্চপ্রোফাইল মামলায় প্রায় ১০০ জন সাক্ষীর বক্তব্য রেকর্ড করা হবে। তাদের মধ্যে মেডিক্যাল স্টাফ, তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং পরিবারের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত।
মারাদোনার কন্যাদেরও আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ট্রায়াল কয়েক মাস ধরে চলতে পারে এবং জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান দিয়েগো মারাদোনা তার ক্যারিয়ারে মোট ৩১২টি গোল করেছেন। আন্তর্জাতিক স্তরে আর্জেন্টিনার হয়ে ৯১টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৩৪টি গোল করেছেন।
ক্লাব পর্যায়ে: বার্সেলোনার হয়ে ৩৬ ম্যাচে ২২ গোল নেপোলির হয়ে ১৮৮ ম্যাচে ৮১ গোল
সেভিয়া, বোকা জুনিয়র্স এবং নেভেলস ওল্ড বয়েজের মতো ক্লাবের হয়েও খেলেছেন।
উপলব্ধি ১৯৮৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয় ১১টি প্রধান টুর্নামেন্ট শিরোপা একটি উয়েফা কাপ একাধিক জাতীয় লিগ শিরোপা
তাকে “ফিফা প্লেয়ার অফ দ্য সেঞ্চুরি” সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও তিনি ব্যালন ডি’অর এবং সাউথ আমেরিকান ফুটবলার অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।
বিতর্কিত মুহূর্ত ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তার “হ্যান্ড অফ গড” গোল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।










