বলিউডে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার গল্প সবসময় যে সহজ হয় না, দিশা পাটানির কেরিয়ার তারই উদাহরণ। উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে জন্ম নেওয়া দিশা পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিং শুরু করেছিলেন। ধীরে ধীরে ক্যামেরার সামনে কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত অভিনয়কেই নিজের ভবিষ্যৎ হিসেবে বেছে নেন তিনি।তবে সেই সিদ্ধান্তের পথ ছিল মোটেই মসৃণ নয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মুম্বইয়ে পা রাখার সময় তাঁর কাছে ছিল প্রায় ৫০০ টাকা। শহরে পরিচিত কেউ ছিলেন না। নিজের খরচ চালাতে বিজ্ঞাপন ও মডেলিংয়ের অডিশন দিতে থাকেন। একের পর এক সুযোগের সন্ধান করলেও সাফল্য দ্রুত আসেনি।
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া ছেড়ে মডেলিংয়ে মন
দিশা লখনউয়ের অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলেন। সেই সময়ই মডেলিংয়ের সুযোগ পান। পড়াশোনা ও মডেলিং একসঙ্গে চালানো কঠিন হয়ে উঠলে দ্বিতীয় বর্ষেই ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে দেন তিনি।এরপর মডেলিংয়ের দুনিয়ায় নিজের পরিচয় তৈরি করতে শুরু করেন। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে কাজ করার পাশাপাশি ২০১৩ সালে পন্ডস ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ইন্দোর প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম রানার-আপ হন। এই সাফল্য তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রথম অডিশনেই ব্যর্থতা, তবু থামেননি
অভিনয়ে আসার শুরুতেও ধাক্কা খেতে হয়েছিল দিশাকে। ‘হিরোপান্তি’ ছবির জন্য অডিশন দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অডিশন সফল হয়নি। নিজের একটি সাক্ষাৎকারে দিশা জানিয়েছিলেন, তখনও অভিনয় সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা খুব বেশি ছিল না।প্রথম সুযোগ হাতছাড়া হলেও তিনি পিছিয়ে যাননি। বরং আরও অডিশন দিতে থাকেন। মডেলিং করতে করতেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ ক্রমশ বাড়তে থাকে।
‘লোফার’ দিয়ে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ
২০১৫ সালে তেলুগু ছবি ‘লোফার’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন দিশা। পুরী জগন্নাথ পরিচালিত ছবিতে বরুণ তেজের বিপরীতে দেখা যায় তাঁকে। বক্স অফিসে ছবিটি প্রত্যাশামতো সাফল্য না পেলেও দিশার অভিনয়জীবনের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপপ্রথম ছবি থেকেই তিনি বুঝিয়ে দেন, মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়কেওতিনি গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।
‘এমএস ধোনি’ বদলে দিল কেরিয়ারের মোড়
দিশা পাটানির জীবনে আসল পরিবর্তন আসে ২০১৬ সালে। নীরজ পাণ্ডে পরিচালিত ‘এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ছবিতে মহেন্দ্র সিং ধোনির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত প্রিয়াঙ্কা ঝার চরিত্রে অভিনয় করেন।সুশান্ত সিং রাজপুত অভিনীত এই ছবি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়। দিশার চরিত্রটি পর্দায় তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ের জন্য থাকলেও গল্পের আবেগঘন অংশে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মনে দাগ কাটে। এরপর আর তাঁকে শুধুমাত্র নবাগত অভিনেত্রী হিসেবে দেখা হয়নি।
‘বাঘি ২’ থেকে জনপ্রিয়তার শিখরে
‘এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’-র পর দিশার কেরিয়ার দ্রুত এগোতে থাকে। ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক তারকা জ্যাকি চ্যানের সঙ্গে ‘কুং ফু যোগা’-য় অভিনয় করেন তিনি। এরপর ২০১৮ সালে টাইগার শ্রফের সঙ্গে ‘বাঘি ২’ তাঁকে আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেয়।ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়ার পাশাপাশি দিশার লুক, ফিটনেস এবং পর্দায় উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
সালমান খান থেকে ‘ভারত’, ‘রাধে’
এরপর দিশা কাজ করেন সলমন খানের সঙ্গে। ২০১৯ সালের ‘ভারত’ ছবিতে রাধার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ছবির ‘স্লো মোশন’ গানেও সলমনের সঙ্গে দেখা যায় তাঁকে।পরবর্তীতে ‘রাধে’-তেও সলমন খানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন দিশা। সময়ের সঙ্গে তাঁর ঝুলিতে যোগ হয় একাধিক বড় বাজেটের ছবি এবং বিভিন্ন ধরনের চরিত্র।
৫০০ টাকা থেকে বড় পর্দার পরিচিত মুখ
মুম্বইয়ে যখন এসেছিলেন, তখন হাতে ছিল মাত্র ৫০০ টাকা। প্রথম অডিশনে ব্যর্থতা, পড়াশোনা ছেড়ে নতুন কেরিয়ার বেছে নেওয়া এবং একা শহরে নিজের জায়গা তৈরি করার লড়াই—দিশা পাটানির কেরিয়ার যাত্রায় প্রতিটি ধাপই ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা।‘এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ তাঁর ভাগ্যের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ঠিকই, তবে সেই সুযোগের পিছনে ছিল দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ধারাবাহিক চেষ্টা। ছোট শুরু থেকে ধীরে ধীরে বলিউডের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার এই যাত্রাই আজ তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম আলোচিত দিক।
অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া ছেড়ে মাত্র ৫০০ টাকা নিয়ে মুম্বই পাড়ি দিয়েছিলেন দিশা পাটানি। প্রথম দিকের অডিশনে ব্যর্থতা এলেও থামেননি তিনি। দক্ষিণী ছবির হাত ধরে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশের পর ‘এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ তাঁকে এনে দেয় দেশজোড়া পরিচিতি।





