বর্ষা এখনও বিদায় নেওয়ার নাম নেই। তার মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনাচ্ছে নিম্নচাপের সম্ভাবনা। এর প্রভাবে শনিবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে সমতল—বৃষ্টির দাপট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেখানেও। সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের জন্যও জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে আবহাওয়ার নতুন করে চোখরাঙানি শুরু হয়েছে। এর প্রভাবেই আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুধু বৃষ্টি নয়, বেশ কিছু এলাকায় বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াও বইতে পারে।
২৯ ও ৩০ অগাস্ট দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগের আশঙ্কা
শনিবার, ২৯ অগাস্ট থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তন স্পষ্ট হতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।এই জেলাগুলির কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে বৃষ্টির পাশাপাশি রাস্তায় জলজট এবং যান চলাচলে সমস্যার আশঙ্কাও থাকছে।
মেদিনীপুরে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
৩০ অগাস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলিতে বৃষ্টির প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পুরুলিয়াতেও ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে ১ সেপ্টেম্বরের পর ধীরে ধীরে বৃষ্টির তীব্রতা কমতে পারে। ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির দাপট
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও অস্বস্তি বাড়তে পারে। ২৯ ও ৩০ অগাস্ট উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।এর সঙ্গে ঘণ্টায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে এই সময় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।
পাহাড়ে কবে বাড়বে বৃষ্টি?
৩১ অগাস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলের বেশ কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এরপর ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
জলজট থেকে বজ্রপাত—কী কী বিপদ হতে পারে?
টানা ভারী বৃষ্টির জেরে নিচু এলাকা এবং বিভিন্ন আন্ডারপাসে সাময়িক জলজট তৈরি হতে পারে। কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।বজ্রপাতের পাশাপাশি দুর্বল বাড়ি, কাঁচা দেওয়াল বা পুরনো নির্মাণ ভেঙে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই ঝড়-বৃষ্টির সময় বাইরে না বেরিয়ে নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় কোনওভাবেই গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়াই নিরাপদ।
মৎস্যজীবীদের জন্য বড় সতর্কতা
নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রও উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ২৯ থেকে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও বাংলাদেশ সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। সর্বোচ্চ দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ২৯ ও ৩০ অগাস্ট দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি হয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।





