Jhulan Yatra: পুতুল নয়, দোলনায় জীবন্ত দেব-দেবী! মুর্শিদাবাদের গ্রামে আজও বেঁচে আছে ‘মানব ঝুলন’-এর ঐতিহ্য

মুর্শিদাবাদের বড়ঞার পাঁচথুপিতে আজও টিকে রয়েছে মানব ঝুলনের ঐতিহ্য। দেব-দেবীর সাজে শিশু, মাটির পুতুল, কাঠের দোলনা ও মানুষের ভিড়ে জমজমাট ঝুলনযাত্রা।

দোলনা সাজানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে নেই খেলনা পুতুল! কখনও শ্রীকৃষ্ণ, কখনও রাধা, আবার কখনও শিব বা দেবীর রূপে সেজে দোলনায় বসেছে শিশুরা। চারপাশে ভক্তিগীতি, নাচ আর উৎসুক দর্শনার্থীদের ভিড়। মুর্শিদাবাদের গ্রামবাংলায় এমনই অভিনব আয়োজনে পালিত হল ‘মানব ঝুলনযাত্রা’। সময়ের সঙ্গে অনেক পুরনো রীতি হারিয়ে গেলেও এই আয়োজনের হাত ধরে আজও বেঁচে রয়েছে বাংলার লোকঐতিহ্যের এক বিশেষ অধ্যায়।

Jhulan Yatra: পুতুল নয়, দোলনায় জীবন্ত দেব-দেবী! মুর্শিদাবাদের গ্রামে আজও বেঁচে আছে ‘মানব ঝুলন’-এর ঐতিহ্য
কী এই মানব ঝুলন?

ঝুলনযাত্রা মূলত রাধা-কৃষ্ণের দোললীলা স্মরণ করে পালিত একটি ধর্মীয় উৎসব। প্রচলিত রীতিতে ফুল, পুতুল, গাছপালা ও নানা সাজসজ্জায় দোলনা তৈরি করা হয়। সেখানে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তি বসিয়ে ভক্তরা দোল দেন।তবে মুর্শিদাবাদের কয়েকটি গ্রামে এই আয়োজন পেয়েছে আলাদা মাত্রা। এখানে মূর্তি বা খেলনা পুতুলের পাশাপাশি শিশুদের বিভিন্ন দেব-দেবীর সাজে সাজিয়ে জীবন্ত চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এই বিশেষ আয়োজনই পরিচিত ‘মানব ঝুলন’ নামে।

পাঁচথুপিতে জমজমাট আয়োজন

মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের পাঁচথুপি গ্রামে এবারও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় মানব ঝুলনযাত্রার। প্রতি বছরের মতো এবারও একাধিক থিমে সাজানো হয় ঝুলন।কখনও মা তারা, কখনও মা দুর্গা—বিভিন্ন দেব-দেবীর রূপে শিশুদের সাজিয়ে উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়। ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি শিশুদের অংশগ্রহণে গোটা আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

Jhulan Yatra: পুতুল নয়, দোলনায় জীবন্ত দেব-দেবী! মুর্শিদাবাদের গ্রামে আজও বেঁচে আছে ‘মানব ঝুলন’-এর ঐতিহ্য
দেব-দেবীর সাজে শিশুরা

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ছোটদের সাজ। কেউ সেজেছিল শ্রীকৃষ্ণ, কেউ আবার শিবের বেশে। শুধু ধর্মীয় চরিত্রই নয়, কোথাও কোথাও সমাজসচেতনতার বার্তাও তুলে ধরা হয় শিশুদের সাজসজ্জার মাধ্যমে।ফলে ঝুলনযাত্রা শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। শিশুদের অংশগ্রহণে তা হয়ে উঠেছে লোকসংস্কৃতি, বিনোদন এবং সামাজিক বার্তার এক সুন্দর মেলবন্ধন।

সাজানো হয়েছিল মাটির পুতুল ও কাঠের দোলনা

মানব ঝুলনের পাশাপাশি গ্রামগুলিতে দেখা যায় ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জাও। মাটির পুতুল, কাঠের দোলনা, গাছপালা ও নানা প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয় ঝুলনের পরিবেশ।উৎসবকে ঘিরে ভক্তিমূলক গান ও নাচেরও আয়োজন ছিল। ফলে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতির নানা রং ফুটে ওঠে গোটা আয়োজনে।

Jhulan Yatra: পুতুল নয়, দোলনায় জীবন্ত দেব-দেবী! মুর্শিদাবাদের গ্রামে আজও বেঁচে আছে ‘মানব ঝুলন’-এর ঐতিহ্য
আট থেকে আশি—ভিড় দর্শনার্থীদের

মানব ঝুলনের অভিনব আয়োজন দেখতে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, বিভিন্ন বয়সের মানুষ ভিড় করেন। শিশু থেকে প্রবীণ—আট থেকে আশি, সকলের মধ্যেই ছিল উৎসাহ।বর্তমান সময়ে আধুনিক বিনোদনের দাপটে গ্রামবাংলার বহু পুরনো লোকাচার হারিয়ে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে পাঁচথুপির মতো এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে মানব ঝুলনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছেও এই ঐতিহ্যকে পৌঁছে দিচ্ছে।

এখনও টিকে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য

ঝুলনযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাধা-কৃষ্ণের বৃন্দাবনলীলার স্মৃতি। বৈষ্ণব ভাবধারায় এই উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দোলনায় রাধা-কৃষ্ণকে বসিয়ে তাঁদের দোল দেওয়ার রীতিই ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঞ্চলে নানা স্থানীয় রূপ পেয়েছে।মুর্শিদাবাদের গ্রামাঞ্চলের মানব ঝুলন সেই লোকায়ত রূপগুলিরই একটি। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ও শিশুদের অভিনব উপস্থাপনা এই উৎসবকে আজও আলাদা করে রেখেছে।

Jhulan Yatra: পুতুল নয়, দোলনায় জীবন্ত দেব-দেবী! মুর্শিদাবাদের গ্রামে আজও বেঁচে আছে ‘মানব ঝুলন’-এর ঐতিহ্য
মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের পাঁচথুপি-সহ বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় এবারও পালিত হল ঐতিহ্যবাহী ঝুলনযাত্রা। তবে এই উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ সাধারণ ঝুলন নয়, বরং শিশুদের দেব-দেবীর সাজে সাজিয়ে তৈরি করা ‘মানব ঝুলন’। ধর্মীয় আচার, লোকসংস্কৃতি ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে উৎসব ঘিরে দেখা গেল ব্যাপক উৎসাহ।

Leave a comment