Environment Hero: শিক্ষক মানেই শুধু ক্লাসরুম নয়! ৭ বছরে ২০ হাজার গাছ, পাখিদের জন্য বানাচ্ছেন আস্তানা দেবব্রত

পেশায় বাংলা শিক্ষক দেবব্রত কুনুই গত সাত বছরে ২০ হাজারের বেশি গাছ লাগিয়েছেন। এবার শান্তিনিকেতনে বর্ষায় বাসা হারানো পাখিদের জন্য তৈরি করছেন কৃত্রিম বাসা।

বীরভূম: চক-ডাস্টার আর বইয়ের পাতার বাইরে আরও একটি বড় পাঠশালা রয়েছে শিক্ষক দেবব্রত কুনুইয়ের। সেই পাঠশালার নাম প্রকৃতি। পেশায় বাংলা শিক্ষক হলেও অবসর সময়ে গাছ লাগানো, দেশীয় গাছের বীজ ছড়ানো এবং অসহায় পাখিদের দেখভাল করাই তাঁর অন্যতম কাজ। গত সাত বছরে তাঁর উদ্যোগে রোপণ করা হয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি গাছ। এবার বর্ষায় বাসা হারানো পাখিদের জন্য গাছের ডালে কৃত্রিম বাসা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

Environment Hero: শিক্ষক মানেই শুধু ক্লাসরুম নয়! ৭ বছরে ২০ হাজার গাছ, পাখিদের জন্য বানাচ্ছেন আস্তানা দেবব্রত
প্রকৃতির সান্নিধ্যেই বড় হয়ে ওঠা

পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের গড়কেল্লার জঙ্গল লাগোয়া গোয়ালয়াড়া গ্রামে জন্ম দেবব্রতের। ছোটবেলায় পড়াশোনার জন্য শান্তিনিকেতনে চলে আসেন তিনি। আশ্রমের প্রকৃতিনির্ভর পরিবেশ তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলে।পড়াশোনা শেষ করে ২০০৫ সালে স্কুল সার্ভিসের মাধ্যমে শিক্ষকতার পেশায় যোগ দেন। স্কুলে বাংলা পড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি তাঁর টান ক্রমশ আরও গভীর হতে থাকে।

সাত বছরে ২০ হাজারের বেশি গাছ

দেশীয় গাছের বীজ সংগ্রহ করে সেগুলি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়াকে নিজের দায়িত্বের মতো করে নিয়েছেন দেবব্রত। রাস্তার ধারে, বনপথে কিংবা স্কুল চত্বরে নিয়মিত গাছ লাগিয়েছেন তিনি।তাঁর হাতে গত সাত বছরে রোপণ করা গাছের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। শুধু চলতি বছরেই পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমের ২৫টির বেশি স্কুলে পড়ুয়াদের দিয়ে প্রায় ৩ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে।জাম, আম, খেজুর, তাল-সহ বিভিন্ন দেশীয় ফলের গাছের কয়েক লক্ষ বীজও সংগ্রহ করে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

Environment Hero: শিক্ষক মানেই শুধু ক্লাসরুম নয়! ৭ বছরে ২০ হাজার গাছ, পাখিদের জন্য বানাচ্ছেন আস্তানা দেবব্রত
পড়ুয়াদেরও শেখান পরিবেশের পাঠ

দেবব্রতের কাছে গাছ লাগানো শুধুমাত্র একটি সামাজিক কাজ নয়, এটি আগামী প্রজন্মের জন্য দায়িত্বও। তাই স্কুলে স্কুলে গিয়ে পড়ুয়াদের পরিবেশের গুরুত্ব বোঝান তিনি।গাছের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের পাশাপাশি পাখি ও গাছের পারস্পরিক নির্ভরতার কথাও ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, একটি গাছ শুধু মানুষকে ছায়া দেয় না, বহু প্রাণীর বেঁচে থাকার আশ্রয়ও তৈরি করে।

আহত পাখিদেরও উদ্ধার করেন

গাছ লাগানোর পাশাপাশি পাখিদের নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এই শিক্ষক। পথের ধারে অসুস্থ বা আহত পাখি দেখতে পেলে তাদের উদ্ধার করে পরিচর্যার পর ফের প্রকৃতির পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।তাঁর এই কাজ থেকেই এবার তৈরি হয়েছে নতুন ভাবনা—পাখিদের জন্য কৃত্রিম বাসা।

বর্ষায় পাখিদের জন্য তৈরি হচ্ছে নিরাপদ ঘর

বর্ষাকালে ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক পাখির বাসা নষ্ট হয়ে যায়। কখনও বাসা ভেঙে পড়ে, আবার কখনও ডিমও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বাসাহারা হয়ে পড়ে বহু পাখি।এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই শান্তিনিকেতনের সেবাপল্লি এলাকায় গাছের ডালে কৃত্রিম বাসা তৈরি করছেন দেবব্রত। তাঁর লক্ষ্য, প্রাকৃতিক বাসা হারানো পাখিদের জন্য অন্তত বিকল্প নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করা।

Environment Hero: শিক্ষক মানেই শুধু ক্লাসরুম নয়! ৭ বছরে ২০ হাজার গাছ, পাখিদের জন্য বানাচ্ছেন আস্তানা দেবব্রত
অন্নদাশঙ্কর রায়ের বাড়ির বাগান থেকেই শুরু

শান্তিনিকেতনে অন্নদাশঙ্কর রায়ের বাড়ির পিছনের বাগানে চারটি কৃত্রিম বাসা বসিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা করেছেন তিনি।তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না দেবব্রত। আগামী দিনে আরও জায়গায় এমন কৃত্রিম বাসা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

‘পাখিরা গাছের বন্ধু’

দেবব্রতের ভাবনায় গাছ এবং পাখি একে অপরের পরিপূরক। পাখিরা গাছের ফল খায় এবং অনেক ক্ষেত্রে সেই ফলের বীজ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেয়। এভাবেই প্রকৃতির নিজস্ব ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তারা।তাই গাছ বাঁচানো এবং পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া—দুই উদ্যোগকেই পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তিনি।

Environment Hero: শিক্ষক মানেই শুধু ক্লাসরুম নয়! ৭ বছরে ২০ হাজার গাছ, পাখিদের জন্য বানাচ্ছেন আস্তানা দেবব্রত
পেশায় বাংলা শিক্ষক, কিন্তু প্রকৃতিই তাঁর জীবনের অন্যতম বড় পাঠশালা। গত সাত বছরে ২০ হাজারেরও বেশি গাছ লাগিয়েছেন দেবব্রত কুনুই। দেশীয় গাছের বীজ ছড়ানোর পাশাপাশি আহত পাখিকে উদ্ধার করে সুস্থ করে তোলেন তিনি। এবার পাখিদের জন্য কৃত্রিম বাসা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন শান্তিনিকেতনে।

Leave a comment