পূর্ব বর্ধমান: প্লাস্টিক বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষার অভিনব বার্তা দিতে তৈরি হয়েছিল বিশেষ রাস্তা। রাস্তার গায়ে ছিল নজরকাড়া নীল রং। নির্মাণের সময় বলা হয়েছিল, সাধারণ রাস্তার তুলনায় এই রাস্তা নাকি অনেক বেশি টেকসই। কিন্তু সময় গড়াতেই বদলে গিয়েছে চেহারা। নীল রং আর তেমন দেখা যায় না, কয়েকটি জায়গায় পিচও উঠে যাওয়ার অভিযোগ। ফলে রাস্তার নির্মাণের গুণমান এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
কোথায় তৈরি হয়েছিল এই ‘নীল রাস্তা’?
পূর্ব বর্ধমানের রায়না-২ ব্লকের উচালন পঞ্চায়েত এলাকায় একলক্ষী থেকে রাওতাড়া পর্যন্ত এই বিশেষ রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। একলক্ষী টোল প্লাজা থেকে রাওতাড়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩২০ মিটার রাস্তা নির্মাণে পিচের সঙ্গে প্রায় ১০ শতাংশ বর্জ্য প্লাস্টিক মেশানো হয়েছিল বলে জানা যায়।এই প্রকল্পে খরচ হয়েছিল আনুমানিক ২২ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা।
কেন প্লাস্টিক মেশানো হয়েছিল?
রাস্তা তৈরিতে বর্জ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের মূল লক্ষ্য ছিল প্লাস্টিক বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশ দূষণ কমানো। পাশাপাশি এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি রাস্তা তুলনামূলকভাবে বেশি টেকসই হবে বলেও দাবি করা হয়েছিল।প্লাস্টিক মেশানোর ফলে বৃষ্টির জল রাস্তার উপর কম জমবে এবং প্রচণ্ড রোদেও পিচ তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকবে—এমন প্রত্যাশা ছিল প্রকল্পটির সঙ্গে।নির্মাণের পর নীল রঙের এই রাস্তা স্থানীয় বাসিন্দা এবং পথচারীদের নজরও কেড়েছিল।
এখন কোথায় সেই নীল রং?
কয়েক বছর পেরোতেই সেই আকর্ষণীয় চেহারা আর নেই। রাস্তা দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও নীল রঙের অস্তিত্ব কার্যত মুছে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, রাস্তার কয়েকটি অংশে পিচ উঠে যাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।এতেই প্রশ্ন উঠছে—সাধারণ রাস্তার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি স্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও এত দ্রুত রাস্তার এমন দশা হল কেন?
নির্মাণে খরচ প্রায় ২৩ লক্ষ
প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ছিল ২২ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এই রাস্তা তখন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে নজর কেড়েছিল।স্থানীয় সূত্রের দাবি, তৎকালীন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের উপস্থিতিতে রাস্তাটির উদ্বোধন হয়েছিল।
রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ রাস্তার সরেজমিন পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাস্তার কোথায় কী সমস্যা তৈরি হয়েছে তা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।একইসঙ্গে এই প্রযুক্তিতে তৈরি রাস্তার প্রকৃত স্থায়িত্ব কতটা, নির্মাণের সময় নির্ধারিত মান বজায় রাখা হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী সময়ে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হয়েছে কি না—সেসব বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য সামনে আনার দাবি উঠেছে।
আসল সমস্যা কোথায়?
একসময় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের নজির হিসেবে যে নীল রাস্তা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, বর্তমানে তার বিবর্ণ চেহারাই নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। রাস্তার পিচ ওঠার কারণ কি নির্মাণের গুণমান, নাকি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব—এখন সেটাই মূল আলোচনার বিষয়।
বর্জ্য প্লাস্টিক ব্যবহার করে তৈরি হয়েছিল পরিবেশবান্ধব ‘নীল রাস্তা’। দাবি ছিল, সাধারণ রাস্তার তুলনায় এর স্থায়িত্ব প্রায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি হতে পারে। কিন্তু কয়েক বছর পর পূর্ব বর্ধমানের সেই রাস্তার নীল রং প্রায় উধাও, কোথাও কোথাও পিচ ওঠার অভিযোগও রয়েছে। প্রায় ২৩ লক্ষ টাকার প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।





