নীল রঙের রোবট বেড়াল আর তার ‘গ্যাজেট’-ভরা পকেট—Doraemon আজ বিশ্বজুড়ে শিশুদের অন্যতম প্রিয় চরিত্র। কিন্তু এই নিরীহ ও জনপ্রিয় অ্যানিমেকেই একসময় ‘বিপজ্জনক’ বলে মনে করেছিল Pakistan। এমনকি নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠেছিল সেখানে, যা ঘিরে তৈরি হয় বড় বিতর্ক।
কোথা থেকে শুরু বিতর্ক?
২০১৬ সালে Pakistan Tehreek-e-Insaf (পিটিআই) এই সিরিজ নিষিদ্ধ করার দাবি তোলে। সেই সময় দলের নেতা Imran Khan-এর দলের পক্ষ থেকেই বিষয়টি সামনে আসে। যদিও শেষ পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি।
অভিযোগ কী ছিল ‘ডোরেমন’-এর বিরুদ্ধে?
সমালোচকদের দাবি ছিল, নোবিতা চরিত্রটি প্রতিনিয়ত Doraemon-এর গ্যাজেটের উপর নির্ভরশীল। ফলে শিশুরা বাস্তব জীবনে নিজের সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা হারাতে পারে। তাদের মধ্যে আত্মনির্ভরতা ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বিধানসভায় উঠেছিল প্রস্তাব
পাঞ্জাব প্রদেশের এক নেতা মালিক তৈমুর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেন কার্টুন চ্যানেলগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের। তাঁর বক্তব্য ছিল, ২৪ ঘণ্টার এই ধরনের অনুষ্ঠান শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু তীব্র ট্রোলিং
এই দাবির পরই নেটদুনিয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা ও ব্যঙ্গ। পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদপত্র ‘ডন’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে ‘ডোরেমন নিষিদ্ধের’ পক্ষে নানা কারণ দেখানো হয়, যা আসলে এই দাবিরই সমালোচনা ছিল।
ভারতের ক্ষেত্রেও উঠেছিল একই প্রশ্ন
শুধু পাকিস্তান নয়, India-তেও মাঝে মাঝে এমন প্রশ্ন উঠেছে। কিছু সমাজকর্মী ও অভিভাবক মনে করেছিলেন, এই ধরনের কার্টুন শিশুদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তবুও আজও সমান জনপ্রিয় এই অ্যানিমে সিরিজ।
বন্ধুত্বের গল্পই আসল আকর্ষণ
আসলে Nobita Nobi ও ডোরেমনের বন্ধুত্বই এই সিরিজের মূল আকর্ষণ। ভবিষ্যৎ থেকে আসা এক রোবট ও এক সাধারণ ছেলের সম্পর্ক—এই আবেগই প্রজন্মের পর প্রজন্মকে টেনে রেখেছে।
জনপ্রিয় জাপানি অ্যানিমে Doraemon-কে ঘিরে পাকিস্তানে একসময় উঠেছিল নিষিদ্ধের দাবি। অভিযোগ ছিল, এই সিরিজ শিশুদের অলস ও নির্ভরশীল করে তোলে। যদিও সেই দাবি ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনাও হয়েছিল।













